৩৪২
কাসি
(Cough)
“কাসি” অন্য রোগের একটি উপসর্গ মাত্র। গলনলীর বিকৃতি, পাকস্থলীর ক্রিয়া-বিকার, ফুসফুস-প্রদাহ, যকৃতের পীড়া, প্রভৃতি পীড়ার সহিত প্রায়ই কাসি বর্তমান থাকে। যক্ষ্মারোগে জার ও বক্ষঃস্থলে বেদনাসহ কাসি বিদ্যমান থাকে। হাঁপানিতে যে কাসি থাকে, তাহা রাত্রিতে বৃদ্ধি পায় এবং সেইসঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকে। নিউমোনিয়াতে ইষ্টক-চূর্ণের বর্ণবিশিষ্ট স্বরণ নিষ্ঠীবনযুক্ত কাসি বর্তমান থাকে। রক্তোৎকাসে উজ্জল রক্তসহ কাসি এবং ঘুংড়ি-কাসিতে “ঘণ্ড-ঘণ্ড” শব্দবিশিষ্ট কাসি থাকে। হাম-জনরের সঙ্গে একপ্রকার শুষ্ক খুসখুসে কাসি দেখা যায়; এতদ্ব্যতীত স্বরযন্ত্র-প্রদাহ, গলায় আলুজিবের বিবৃদ্ধি, বঙ্গাবরক-ঝিল্লী-প্রদাহ, হৃৎপিন্ডের অক্ষমতাজনিত ফুস-ফুসে অধিক রক্তসঞ্চয় প্রভৃতি কারণে কাসি হইতে পারে। কাসি যদিও অন্য পাঁড়ার উপসর্গ’ মাত্র, তথাপি বহু দিবস যাবৎ কাসিতে ভুগিলে কিম্বা নিম্ন-লিখিত ঔষধাদি ব্যবহার সত্ত্বেও পীড়া নিরাময় না হইলে উহা নিরাকরণকল্পে উপযুক্ত চিকিৎসকের সাহায্য লওয়া আবশ্যক। এইরূপ কাসি উপেক্ষার বিষয় নহে।
কয়েকটি প্রধান ঔষধের লক্ষণ
অ্যাকোনাইট ৩০-৬। শুষ্ক ও কঠিন তরুণ কাসি এবং তৎসহ অস্থিরতা, মাথাধরা: মুখমণ্ডল রক্তিমান্ড, তৃষ্ণা, গলা শুষ্ক ও জ্বালাযুক্ত: স্বল্প প্রস্রাব, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি লক্ষণ; চিৎ হইয়া শয়ন করিলে কাসির উপশম: কাৎ হইয়া শয়ন করিলে এবং জল পানে বা ধূমপানে কাসির বৃদ্ধি: কাসিবার সময় বক্ষঃস্থলে খোঁচাবে’ধার মত বেদনা: শুষ্ক ঠান্ডা বাতাস লাগান হেতু কাসি। রাত্রিকালে বিশেষতঃ মধ্যরাত্রিতেই কাসির বৃদ্ধি।
ইপিকাক ৩০। অবিরত হাঁচি বুকে প্রচুর সর্দি, কিন্তু কাসিলেও উঠে না। আক্ষেপিক শ্বাসরুদ্ধকর কাসি, শ্বাসনলীতে সুড়সুড়ি, সাই-সাই শব্দ ও প্রবল কাসি, অতিরিক্ত পরিমাণে শ্লেষ্মা জমিয়া ঘড়ঘড় শব্দ: কাসিবার
সময় নাভিতে বেদনা; বমনেচ্ছা বা বমন গ্রুপ-কাসির প্রথমাবস্থা সपहन, স্বরলোপ। মোটাসোটা ছেলেদের গৃহড়ি-কাসি।
সিন্য ৩০। শুল্ক কাসি, কখন কখনও শ্লেষ্মা নিঃসরণ; নাসিকায় জালা; প্রচন্ড কাসি, রাত্রিকালেই বেশী; কাসির জন্য শুইয়া থাকিতে পারে না. উঠিয়া বসিতে হয়। ক্রিমিযুক্ত ছেলেদের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।
সিপিয়া ৩০। দিবারাত্র অবিভ্রান্ত ধর্ম’, শ্লেষ্মা তুলিতে না পারা হেতু গিলিয়া ফেলা, বুকে শ্লেষ্মা জমা হেতু কাসি।
ক্যাল্কেরিয়া-কার’ ৬। রাত্রিতে শুল্ক কাসি, নিদ্রার পরই কাসি।
রাত্রিকালে শুষ্ক ও দিবাভাগে তরল শ্লেষ্মাস্রাবসহ কাসি। এক মাড়মড় ও গলা সুড়সুড় করে। ঈষৎ মিষ্টস্বাসযুক্ত শ্লেষ্মা, কখন কখনও দুর্গন্ধযুক্ত শ্লেষ্মাস্রাব: পূজের মত গয়ার নিঃসরণ এবং উহা জলে ডুবিয়া যায়।
জ্যাকেসিস ৬। ঘুম ভাঙ্গিলে কাসির বৃদ্ধি। অনেকক্ষণ, ফাসিবার পর সামান্য একটু গয়ার উঠে। গলা সুড়সুড় করিয়া অবিরাম শ্বাসরোধক কাসি। কাসিতে কার্সিতে খুব খানিকটা রজ্জবৎ শ্লেষ্মা উঠিয়া যায়।
সারদুইনেরিয়া-নাইট্রিক ৬। নাক সুড়সুড় করিয়া অনবরত কাসি।
জেন্সিমিয়াম ৩। স্বরভঙ্গ ও স্বরবন্ধতাসহ উগ্র কাসি ও সেইসঙ্গে গলায় এবং বুকে বেদনা (প্রদাহের প্রথমাবস্থায়)।
বেলেডোনা ৩০-৬। শুষ্ক কাসি, কাসিবার সময় আজেল, কাসিতে কাসিতে দম আটকাইয়া যাওয়া, প্রবল কাসি, কাসির শেষে হাঁচি। পুরাতন কাসি একটু সরল হয় (টুকরা টুকরা শ্লেষ্মা নিঃসরণ হয়); গলা সুড়সুড় করা, স্বরনলী বা কণ্ঠনলীতে প্রদাহ, পূর্ণ ও কঠিন নাড়ী, উজ্জল চচ্ছ, মুখমন্ডল রক্তবর্ণ, মাথাধরা, মস্তিষ্কে রক্তাধিক্য, কখন কখনও সৎসে কাসি, রাত্রিতে বৃদ্ধি, শীতল বাতাসে আরাম বোধ, বহুঃস্থলে যাতনা; শ্বাস-প্রশ্বাস মৃদু।
অ্যাসিড-নাইট্রিক ৩-৩০। অল্পক্ষণস্থায়ী শুষ্ক ও বিরক্তিকর বহু-দিনের পুরাতন কাসি, গয়ার নিঃসরণ হয় না. বক্ষাস্থির নিম্পে বেদনা, কোষ্ঠকাঠিন্য।
এস্টিম-টার্ট ৩-৩০। -ছীণ স্বর, স্বরভঙ্গ, কথা কহিলে বৃদ্ধি। কাসিলে বা নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসকালে গলায় শ্লেষ্মা ঘড়ঘড় করে এবং ঐ শব্দ দূর
হইতে শোনা যায়। শোখা যড়ড় করে, কিন্তু কালিলে উঠে না, কখনও বা ফেনাহর প্রেক্ষ্য। ভাসিতে কাসিতে হাঁপাইতে থাকে এবং হাই উঠে। বরতলাহর শুক্ষ কাসি, পথ্য মড়মড় করিয়া পরল লেখা কষ্টে সিখেন, আমার করিবার সময় ভাসিতে কাদিতে ভুক্তয়বা বমন।
রাইয়োনিয়া ৩-০০। শুল্ক কাসি (দিবসে বৃদ্ধি), সরল কাসি,
লাদা ও হলদে গয়ার নিঃসরণ সমন বা বমনেচ্ছা, বমনেচ্ছায় কালি বাড়ে এবং কাসিলে নধন হয়। কাসিবার সময় মস্তকে, বহুঃস্থালে ও পার্শ্বদেশে ছিঁড়িয়া ফেলার ন্যায় বা সূচীবিষবৎ বেদনা, কাসিবার সময় সর্বাঙ্গে কম্পন, প্রাতঃ কালে, সন্ধ্যার সময়ে ও শীতল বাতাসে কাসির বৃদ্ধি। কৃষ্ণ কাসি (কাসিতে কাসিতে গময় সময় লেচ্ছা সরল হয় ও রক্তের দাগসহ কিল্ডিং নিঃসরণ হইয়া থাকে), পানাহারে কাসির বৃদ্ধি। কাসির প্রাবল্যে রোগী বিছানায় উঠিয়া বসিতে বাধ্য হয়। গরম ঘরে গেলে কাসির উদ্ভেক-এই ঔষধের একটি নির্দেশক লক্ষণ।
সাফার ৬-৩০।-পুরাতন কাসি, দূরারোগ্য শুল্ক কার্সি সহ বৃকে পাটিয়া ধরা ও বমনেচ্ছা সরল কাসিসহ দিবাভাগে ঈষৎ হরিং বা সবুজাভঅথবা হরিদ্রাভ শ্লেষ্মা নিঃসরণ এবং রাত্রিকালে শুষ্ক কাসি ও তৎসহ শিরঃপীড়া: রক্ত-বমন।
রিউমেন্স ৬। অনবরত শুষ্ক কাসি, কাসিবার সময় আক্ষেপ: শয়নে, ঠান্ডা বাতাসে বা রাত্রিতে পাঁড়ার বৃদ্ধি, দিবা ১০-১২ ঘটিকায় পাঁড়ার বৃদ্ধি, আপাদমস্তক বস্ত্রদ্বারা আবৃত করিলে আরাম বোধ।
ষ্টিষ্টা ৬-১২। অনবরত শুষ্ক কাসি (সাধারণতঃ কাসিবার সময়ে কোনরূপ যাতনা থাকে না), গ্রুপিং-কাসির মত আক্ষেপ, রাত্রিতে বা রোগী ক্লান্ত হইলে পাঁড়ার বৃদ্ধি।
ম্যাঙ্গেনাম-অ্যাসেটিকাম ৬-৩০। শয়ন করিলেই কাসির উপশম, স্বরভঙ্গ (পুরাতন)। সন্ধ্যায় এবং আর্দ্র বায়তে কাসির বৃদ্ধি।
ড্রসেরা ৩০। আক্ষেপিক কাসি; শুইলে, হাসিলে, কাঁদিলে, গান গাহিলে, ধূমপানে বা জলাদি পানে এবং অধিক রাত্রিতে বৃদ্ধি। ঘঙঘতে কাসি: বমন বা বমনেচ্ছা গয়ার হলদে, পূজের ন্যায় দুর্গন্ধযুক্ত ও তিক্তস্বাদ। শ্বাসকষ্ট, গয়ারে রক্তের দাগ, ঘুম ভাঙ্গিবার পর ঘাম।
ডাঙ্কামারা ৬-৩০। হাম-জরের পর কাসি; শুষ্ক বিকৃত কাসি।
সময় সময় তরল কাসিতেই ইহা ফলপ্রসূ। কাসিতে কাসিতে ধূ’কিতে বা হাঁপাইতে থাকে: শইলে ও গরমে কাসির বৃদ্ধি; মুক্ত বায়ুতে উপশম। জলে ভিজিবার ফলে কাসিতে ডালকামারা মহৌষধ।
অ্যালিয়াম-স্যাটাইভা ৩।-পুরাতন কাসি, প্রচুর শ্লেষ্মানিঃসরণ; বুকে ব্যথা: প্রাতঃকালে শয়ন-কক্ষের বাহিরে আসিলেই কাসি ও শ্লেষ্মাম্ৰাৰ, চটচটে শ্লেষ্ম, সহজে তোলা যায় না।
কড়াস-ক্যাক্টাই ৬। পরিষ্কার রজ্জবৎ শ্লেষ্মাযুক্ত প্রচন্ড কাসি:
আজিঙ্কা বড়, তজ্জন্য অবিরাম কাসি; প্রাতঃকালে আক্ষেপিক কাসি; বাসরোধক কাসি। ঘুম ভাঙ্গিলেই কাসি।
মার্ক-ডাই ৩ চূর্ণ। কর্কশ, বিরক্তিকর কাসি; কাসিতে কাসিতে গলা চিরিয়া গিয়াছে বা ঘা হইয়াছে এরূপ বোধ নাকে ঘা: ঘর্ম’।
মার্ক’-সহ ৬।-পুরাতন সরল কাসি, ক্লেদময় ও ক্লেদরসাম্বিত গয়ার নিঃসরণ। রাত্রিতে বৃদ্ধি; পিচ্ছিল,
মেন্দা-দিদারেটা ৩। শুষ্ক কাসি ধূম বা শীতল বায় লাগিলে কিম্বা কথা কহিলে বা পুস্তকাদি পড়িবার সময় কাসি বৃদ্ধি পায়।
নাইট্রিক-অ্যাসিড ০। কোষ্ঠবদ্ধতাসহ কাসি।
কোয়্যালিয়াম ৩-৩০। স্নায়বিক বা গুল্মবায়ুগ্রস্ত রোগীর কাসি।
ম্যাগ্নেসিয়াফস ৬০ চুচূর্ণ (উষ্ণ জলসহ সেব্য)। – আক্ষেপিক কাসি সহ দারুণ যন্ত্রণা।
কেলি-সাল্ফ ৬০, ৬। হরিদ্রাবর্ণের শ্লেষ্মা নিঃসরণ।
নেট্রাম-মিউর ৬০, ১২০, ৩০।-সাদা জলবৎ অথবা ফেনিল শেখ নিঃসরণ।
নেট্রাম-ফস ৩৪, ৬।-অম্লরোগের উপসর্গ’সহ কাসি।
নেট্রাম-সাফ ৩, ১২০।- পিত্তরোগের উপসর্গ’সহ কাসি; বর্ষাকালে যা আর্দ্র গুলো-হাওয়ায় কাসি।
কার্বো-ভেজ ৬। সামান্য ঠাণ্ডাতেই কাসি, স্বরভঙ্গ, স্বরলোপ।
মণিকা ৩। ক্ষণস্থায়ী খুসখুসে কাসি, কাসিতে কাসিতে সর্বশরীর কাঁপিয়া উঠে; কাসির সহিত রক্ত নির্গমন; বন্ধঃপার্শ্বে সূচফুটান মত বেদনা।
দ.
৩৪৬
হোমিও পারিবারিক চিকিৎলা
আসে’নিক-অ্যালবাম ৩০-৩০। স্বাসরোধক
কাসি, বাম্মদে আকুঞ্চন; অস্থিরতা পিপাসা আজেপিক কাসি, রাত্রিতে কাসি আরম্ভহইয়া রোগীর নিদ্রা ভঙ্গ হয় এবং অবশেষে অল্পমাত্র লেদা উঠে।
কষ্টিকাম ৬-৩০। শুল্ক নওমতে কাসি: কাসিতে কাসিতে প্রস্রাব
করিয়া ফেলে; স্বরভঙ্গা, রাত্রিকালে শয্যার উত্তাপে কালির বৃদ্ধি। শীতল জল পানে কাসির উপশম। কাসিতে কাসিতে গলা পর্যান্ত স্লেখ্য উঠে. কিন্তু রোগীর শ্লেষ্মা তুলিবার শক্তি থাকে না।
কোনায়াম ৬-৩০। – গলা খুসখুস করিয়া শুষ্ক কাসি: শয়ন
করিলে, বসিলে বা হাসিলে এবং রাত্রিকালে কাসির বৃদ্ধি দিবাভাগে কাসি অপেক্ষাকৃত কম।
স্পঞ্জিরা ২০-৬।-শুষ্ক কুন্ডুর রববৎ বা শিষ দেওয়ার মত কাসি:
কণ্ঠনলীর শুষ্ক কাসি, কাসির সময় দম আটকাইয়া যাওয়া, গলা সুড়সুড় করা; স্বরভা। কথা কহিলে, গান গাহিলে বা হাসিলে কাসির বৃদ্ধি:
গরম পানাহারে উপশম।
হিপার-সাফার ৬-৩০। অজীর্ণতাসহ পুরাতন কাসি; স্বরভঙ্গসহ
বিরক্তিকর শ্বাসরোধক কাসি, ঠান্ডা লাগিলে বা ঠান্ডা জিনিস পানাহারে কাসির বৃদ্ধি। গলায় যেন কিছু আটকাইয়া আছে এইরূপ বোধ এবং সেই-জন্য ঢোক গিলিতে কষ্ট। শুইলে, কথা কহিলে, কাঁদিলে বা ঠান্ডা বাতাস
লাগিলে কাসি বাড়ে। কাসির পর হাঁচি।
হায়োসায়েমাস ৬। স্নায়বিক আক্ষেপ জনিত শুষ্ক কাসি: রাত্রিতে
শয়ন করিলে কাসির বৃদ্ধি এবং উঠিয়া বসিলে কাসির হ্রাস। শিশু, বৃদ্ধ ও হিস্টিরিয়াগ্রস্তা নারীর পক্ষে বেশী উপযোগী। গলা কুটকুট করিয়া কাসি:
মনে হয় আজিহ্বা খুব বাড়িয়াছে।
ইগ্নেসিয়া ৬। শুষ্ক আছেপযুক্ত খুব ঘন ঘন কাসি, কাসিতে কাসিতে কাসির ইচ্ছাবৃদ্ধি। ঘন ঘন দীর্ঘনিঃশ্বাস। হিস্টিরিয়া বা গুলবায়ুগ্রস্তা রোগিণীর কাসি: কাসির জন্য নিদ্রার ব্যাঘাত: কণ্ঠনালী পুরতুর করিয়া নড়ে: কাসিলে গলার খুসখুসি বাড়ে: সন্ধ্যাকালে কাসি বাড়ে। গয়ার খুব কম উঠে।
কেলি-বাইকুম ৬। কাসি. দৃঢ় রজ্জবৎ ও চটচটে (কখনও বা রক্ত-৩৬৭
কাসি
089
মিশ্রিত) কফ উঠা: সাই-সাঁই বা হাঁস-ফাস করা, শ্বাসকষ্ট; কাসির পর মাথাঘোরা: নিদ্রাভঙ্গ বা আহারের পর কাসি বাড়ে।
নাক্স-ভূমিকা ৬-৩০। কাসিবার সময় পাকস্থলীতে বেদনা
শিরঃপীড়া: শাসনলীতে জজালাকর-প্রদাহ; আঠা আঠা শ্লেষ্মা নিঃসরণ: অতি প্রত্যুষে, আহারান্তে, নড়িলে-চড়িলে বা জোরে নিঃশ্বাস ফেলিলে কাসির বৃদ্ধি: কাসির জন্য নিদ্রার ব্যাঘাত বিশেষতঃ মধ্যরাত্রিতে। 6
ফস্ফোরাস ৬। গলা খুসখুস করিয়া শুষ্ক কাসি: স্বরভঙ্গ; বন্ধুঃস্থলে বেদনা; ফেনাযুক্ত ও আঠা আঠা পূজময় লবণাস্বাদবিশিষ্ট লেমা-স্রাব; লোহার মরিচার মত কিম্বা ইটের গুঁড়ার ন্যায় বর্ণবিশিষ্ট শ্লেষ্মাস্রাব: পাঠ করিলে, কথা কহিলে, হাসিলে, নড়িলে-চড়িলে বা গরম স্থান হইতে ঠান্ডা স্থানে গেলে কাসির বৃদ্ধি।
পাসেটিলা ৬-৩০। শ্লেষ্ম-সঞ্চয়বশতঃ শ্বাসকষ্ট: পলায় ঘড়ঘড়
শব্দ: দিবাভাগে হরিদ্রাবর্ণ তিক্ত শ্লেষ্মাস্রাব: রাত্রিতে এবং শয়ন করিলে
শুষ্ক করসি: বহিবায়ুতে কাসির উপশম।
অ্যাকালিফা ৪, ৩, ৩০। রক্তোৎকাস, শুষ্ক ও শক্ত কষ্টকর পয়ার এবং সময় সময় রক্তলাঞ্ছিত প্রায়ই জর থাকে না।
জ্যান্টিসিয়া-আচাটোডা ৪, ৩, ৩০। যুগপৎ কাসি ও হাঁচি। স্বরভঙ্গ,
স্বরনলী বেদনাযুক্ত। দম আটকান কাসির বেগ। নূতন ও পুরাতন সকল
প্রকার কাসিতেই ইহা উপযোগী।
“সর্দি”, “ব্রঙ্কাইটিস”, “হাঁপানি”, “নিউমোনিয়া” প্রভৃতি রোগ দ্রষ্টব্য। কোরালিয়াম-রুব্রাম ৬, ব্রোমিয়াম ৬, অ্যামন-কার্ব ৬০, অ্যালিয়াম-সেপা ৬. আয়োডিয়াম ৩০, লাইকো ৩০. লোবেলিয়া ৪. সেনেগা ও (প্রতি মাত্রায় পাঁচ ফোঁটা), ষ্ট্যানাম ৬ প্রভৃতি সময় সময় আবশ্যক হইতে পারে।
পালনীয় নিয়ম। রুদ্ধ আর্দ্র বায়ু অথবা জনাকীর্ণ স্থানের বায়ু পরিত্যাজ্য। প্রাতঃকালে মুক্তবায়ুতে ভ্রমণ ও লঘু ব্যায়াম। প্রাতেঃ শীতল জলে স্নান পুরাতন কাসি নিবারণের পক্ষে ভাল। অধিক রৌদ্র লাগান অনিষ্টকর।
পথ্য। ভাত, রুটী, ছাগ বা কচ্ছপ মাংস, মৃগে. কলাই বা কূলস্থ কলাইয়ের যায, দুগ্ধ (বিশেষতঃ ছাগ-দুদ্ধ), বেতোশাক, কচি মূলা, বাসক৩৪৮
হোমিও পারিবারিক চিকিৎসা
কন্টিকারী, ছোট এলাচ, রসুন, হরীতকী, খৈ, মধু, মিছরী প্রভৃতি। টক ওবা, বরফ, আইসক্রীম, গুরুপাক দ্রব্য যাহাতে পেটের গোলমাল বা পেটে বায়ু হয় তাহা বর্জনীয়।
হুপিংকাসি বা চুপকাস (Whooping Cough) “শিশুগণের পীড়া ও চিকিৎসা” দ্রষ্টব্য।
জয়কাসির জন্য “যক্ষ্মাকাস” অধ্যায় দ্রষ্টব্য। বিশদ বিবরণের জন্য আমাদের “ক্ষয়রোগ চিকিৎসা” পুস্তক পাঠ করিতে অনুরোধ করি।
Leave a Reply