হোমিও পারিবারিক চিকিৎসা
আঙ্গুলহাড়া (Whitlow)
নখ খুব ছোট করিয়া কাটিলে, আঘাত লাগিলে বা পুড়িয়া গেলে অথবা কোন বিষাক্ত পদার্থ রক্তে প্রবেশ করিলে, আঙ্গুলের অগ্রভাগ প্রদাহযুক্ত হইয়া উহাতে পূজসঞ্চার হয়-ইহারই নাম আঙ্গুলহাড়া। পুজ ঠিক চর্ম’নিম্নস্থ স্থান হইতে অস্থি-আবরণীর (periosteum) ভিতর পর্যান্ত যে কোনও স্থানে জন্মিতে পারে। এই রোগের প্রধান উল্লেখযোগ্য উপসর্গ-প্রদাহের তুলনায় যন্ত্রণার অস্বাভাবিক আধিক্য। সময়ে সূচিকিৎসা না হইলে ফল মারাত্মক হইতে পারে।
চিকিৎসা
আঙ্গুলহাড়া হইবার উপক্রমে, লবণ মিশ্রিত উষ্ণ জলে আঙ্গুলটি বারম্বার ডুবাইয়া রাখা এবং সাইলিসিয়া ৩.৭ এবং পরে ৩০ সেবন বিধি। জর থাকিলে সাইলিসিয়ার সহিত বেলেডোনা ৬ (পৰ্য্যায়ক্রমে)। আঙ্গুলের অগ্রভাগ অতিশয় ফীত হইয়া ঈষৎ কৃষ্ণবর্ণ হইলে এবং জালা ও বেদনা থাকিলে আর্সেনিক ৬ কিন্তু নীলবর্ণ’ হইলে ল্যাকেসিস ৬। (পৗঁড়ার প্রথম অবস্থায়) অসহ্য যন্ত্রণা উপস্থিত হইলে মার্ক-সল ৬, হিপার সাল্ফার ৬. জ্যামোনিয়াম ৬, অ্যামন-কার্ব ২০০ বা বোরিক-অ্যাসিড ৬। অ্যথ্যাক্সিন ৩০, এপিস ৩. গ্র্যাফাইটিস ৬, স্যাঙ্গুইনেরিয়া ১০, ব্রাইয়োনিয়া ৬. কষ্টিকাম ৬, লেডাম ৩ প্রভৃতি ঔষধও সময় সময় আবশ্যক হইতে পারে। নাইট্রিক-অ্যাসিড ৪. ডায়োস্কোরিয়াও বা ফস্ফোরাস ও আক্রান্ত স্থানে লাগাইলে যন্ত্রণার লাঘব হয়।
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা-একটি কূলি বেগুন বোঁটার কাছে কাটিয়া ঐ মুখ দিয়া বেগুনের মধ্যভাগ হইতে শাঁস ফেলিয়া দিয়া সেই শূন্যগর্ভবেগুন বা একটি পাতিলেবু ঐভাবে কুরিয়া ঐটি আঙ্গুলের উপর টুপির মত বসাইয়া দিলে যন্ত্রণার উপশম হইতে পারে। নিমের পুলটিস গরম গরম ব্যান্ডেজ বা ন্যাকড়া বারা প্রয়োগ করিলেও রোগের উপশম হইতে পারে। হাত, গলার সঙ্গে ফুলাইয়া রাখা আবশ্যক যেন আক্রান্ত অঙ্গুলীতে ঝাকুনি না লাগে। পূজ জন্মিলে অস্ত্র চিকিৎসকের সাহায্য বিধেয় এবং ঘা সারিয়া না যাওয়া পর্য্যন্ত ক্যান্ডেলা-ধাবন দ্বারা ধুইয়া দেওয়া কর্তব্য।
Leave a Reply