(Bronchitis)
তরুণ বায়ুনল তুিজ-প্রদাহ-ইহাতে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাসনলীর শ্লৈষ্মিক-বিল্লী আক্রান্ত হয়। শিশু ও বৃষ্ণদিগের এই পীড়ায় বিপদাশঙ্কা অধিক। বেশীক্ষণ ভিজা কাপড়ে থাকা, বৃষ্টিতে ভিজা, হিম বা ঠাণ্ডা লাগান, সহসা ঘর্ম’রোধ প্রভৃতি কারণে এই পীড়া জন্মে।
লক্ষণ। প্রথম মাথাধরা, আলস্য ক্রমে জজ্বরভাব, বক্ষঃমধ্যে গরম বোধ, স্বরভঙ্গ, শ্বাসকষ্ট (বুক সাটিয়া ধরার ন্যায় বোধ)।
প্রথমাবস্থায়। শুষ্ক কাসি, তরল শ্লেষ্মাস্রাব, পরে গাঢ় হরিদ্রাবর্ণের শ্লেষ্মস্রাব, জিহ্বা ময়লাযুক্ত ও মূত্র পরিমাণে কম।
দ্বিতীয়াবস্থায়। অতিশয় শ্বাসকষ্ট, গলা ঘড়-ঘড় করা, জর (১০৩° ডিগ্রী পর্যন্ত), আঠার ন্যায় চটচটে শীতল ঘর্ম, উভয় গাল পাণ্ডু বা নীলবর্ণ, শুষ্ক ও খসখসে জিহ্বা, মূত্রের পরিমাণ কম ও হাত-পা ঠাণ্ডা। চার-পাঁচদিনের মধ্যে পীড়ার উপশম না হইলে রোগ ক্রমে কঠিন হইয়া পড়ে।
অশুভ লক্ষণ। শীতল ঘর্মে’ সর্বাঙ্গ আপ্লুত হওয়া, গণ্ড ও ওঠ বিবর্ণ বা নীল, হাত-পা ঠান্ডা, গলা ঘড়ঘড় করা, শ্বাসকষ্ট, অতীব অবসন্নতা এবং অবশেষে সংজ্ঞালোপ। এই অবস্থায় মৃত্যুও ঘটিতে পারে।
পুরাতন বায়নলীভুজ-প্রদাহ। ইহা কতকটা স্বতন্ত্র পীড়া, সচরাচর বৃদ্ধ বয়সেই ঘটিয়া থাকে। নিয়ত কাসি এবং তজ্জনিত বেশী বায়ু বা বাষ্প জমিয়া তন্তু স্ফীত হওয়া, বায়ুনলীর প্রসারণ, শ্বাস-প্রশ্বাস হ্রাস হওয়া, বেশী কফ উঠা, বিজর অবস্থা প্রভৃতি ইহার প্রধান উপসর্গ’। প্রবল কাসির জন্য প্রায়ই শ্বাসকষ্ট দেখা যায় এবং বহুক্ষেত্রেই ইহার সহিত হাঁপানি রোগও থাকে।
সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা
১। তরুণ প্রদাহে-অ্যাকোনাইট, অ্যান্টিম-টার্ট’, ইপিকাক, ব্রাইয়োনিয়া, ফস্ফোরাস, কেলি-বাইক্রমিকাম।
২। পুরাতন প্রদাহে-অ্যান্টিম টার্ট (সরল শ্লেষ্মা); কেলি-বাই (গাঢ় রজ্জবৎ কষ্ণ); মার্ক (পুজবৎ কফ); অ্যামন-কার্ব (নিয়ত কাসি এবং বায়নলীকুজ-প্রদাহ
৩২০
ময় মধ্যে যেন চুল আটকাইয়া আছে এইরূপ বোধ); কার্বো-ভেজ বা মাসেনিক (অস্থাভাবিক দৌন’ল্য)।
লাইলিয়া, ফস্ফো, লাক্ষ, ক্যান্টাস সময় সময় আবশ্যক হয়।
দেশী কফ উঠিলে প্রিয়োজোট (খানিকটা ফটন্ত জলে তিন-চার ফৌটা চালিয়া ঘ্রাণ লইলে কফ উঠা বস্থ হয় এবং তাহার দুর্গস্থও নিবারিত )।
৩। শিশুর রোগে-অ্যান্টিম-টার্ট’ (বেশী শ্লেষ্মা জমিলে); ইপিকাক (আজেসিক কাসিতে) পালেটিলা (সরল কার্সিতে); অ্যাকোনাইট: ব্রাইয়োনিয়া; ফস্ফোরাস।
কয়েকটি প্রধান ঔষধ
অ্যাকোনইট ৩০। বুকে ও গলায় কুটকুট করে এবং সেইসঙ্গে কপালে ও রগে বেদনা বোধ। রোগের প্রারম্ভে এই ঔষধ প্রয়োগ করিলে প্রায়ই সুফল পাওয়া যায়।
বেলেডোনা ৬।- (অ্যাকোনাইট প্রয়োগে আশানুরূপ ফল না পাইলে) শুষ্ক খুসখুসে কাসি; জনর শিরঃপীড়া; চক্ষু ও মুখমণ্ডল লালৰৰ্ণ; রোগী আলোক বা শব্দ সহিতে পারে না।’
অ্যান্টিম-টার্ট ৬-৩০। কাসিতে কাসিতে শ্বাসরোধ ভাব, কাটা কাটা
শ্লেষ্মা নিঃসরণ; সাইসাই শব্দ; কোমরে, পিঠে ও মাথায় বেদনা এবং হৃৎস্পন্দন (বৃদ্ধ ও শিশুদিগের পক্ষে); গলা ঘড়ঘড় করে, কিন্তু অত্যল্প শ্লেষ্মা উঠে।
ব্রাইয়োনিয়া ৩০-৩০। গলনালী ও বৃহৎ বৃহৎ শ্বাসনলী আক্রান্ত হইয়া অতিশয় কষ্টকার কাসি; শুষ্ক কাসি, কাসিলে বুকে লাগে, কাসির জন্য উঠিয়া বসিতে হয়, নড়িলে-চড়িলে বৃদ্ধি। হরিদ্রাবর্ণের গাঢ় অথবা রক্তমিশ্রিত শ্লেষ্মাস্রাব; কাসিতে কাসিতে বক্ষঃস্থল চাপিয়া ধরা। গরম ঘরে ঢুকিলেই কাসির উদ্রেক (পাস)।
কেলি-বাইক্রম ৬-১২।- স্বরনালী ও বক্ষঃস্থল প্রদাহ; ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বরনালী আক্রান্ত হইয়া কষ্টকর কাসি, বহুক্ষণ যাবৎ কাসিতে কাসিতে আঠার ন্যায় চটচটে, সাদা অথবা অপরিষ্কার শ্লেষ্মাস্রাব; জিহ্বায় হরিদ্রাবণে’র ময়লা লেপ, ক্ষুধামান্দ্য।
০২৪
হোমিও পারিবারিক চিকিৎসা
আর্সেনিক-অ্যালবাম ৩, ১২, ৩০।- অল্প স্লেম্মা নিঃসরণ; শয়ন করিলে হাঁপানির ন্যায় শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট: কাসিতে কাসিতে নিদ্রাভঙ্গ হওয়া। কার্সিতে ফাসিতে তরল শ্লেষ্মাস্রাব (কৃষ্ণ ও দুর্বলদিগের রোগে)।
গালেন্সটিলা ৩। প্রচুর পরিমাণে কফ উঠা, শুইয়া থাকিলে বা গরম ঘরে বা বিছানার গরমে কাসির বৃদ্ধি; মুক্ত বাতাসে কতকটা ভাল থাকে। রাত্রিকালে শুক্ষে কাসি, দিনের বেলায় লেখা।
কার্বো-তেজ ১, ১২, ৩০।-পীড়ার পুরাতন বা চরম অবস্থায় রোগীর হস্ত ও পদতল শাঁচল; অতিশয় দূর্বলতা, হাত-পায়ের নখ নীলবর্ণ’; স্বরভঙ্গ; ক্রুর শ্রেষ্মা নিঃসরণ।
কস্ফোরাম ৩।-শিশুদিগের ব্রঙ্কো-নিউমোনিয়া। শুল্ক কাসি; কথা কহিলে, হাসিলে, ঘরের গরম হইতে বাহিরের ঠান্ডায় আসিলে কাসি। বুকে যেন বোঝা চাপান আছে; মুখে মিষ্ট স্বাদ।
চায়না ৬, ১২, ৩০। অতিরিক্ত পরিমাণে শ্লোস্রাব হইয়া রোগী দুর্বল হইয়া পড়িলে। রাত্রিতে শয়নকালে বুকে ভার বোধ, যেন বোঝা চাপান আছে; মুখে তিক্ত স্বাদ।
ভাব। ইপিকাক ৩। কণ্ঠনলীতে শ্লেষ্মার ঘড়ঘড়ানি। নিয়ত গা-বমি-বমি
কষ্টিকাম ৩। স্বরভঙ্গ; কাসিতে কাসিতে কফের টুকরা বাহিরে ছিটকাইয়া পড়ে।
মাকিউরিয়াস-সল ৬।-সরল সর্দি ও তৎসহ ঘর্ম; রাত্রিতে বৃদ্ধি।
আর্সেনিক-আয়োড ৩০। জবর, নৈশ-ঘর্ম, শ্বাসকষ্ট, পূজবৎ গয়ার
উঠা, অত্যন্ত দুর্বলতা, ক্ষয়কাসের লক্ষণ।
স্যাঙ্গুইনেরিয়া ৩। আক্ষেপযুক্ত শুষ্ক কাসি বা প্রচুর পরিমাণে কফ উঠা, খোঁচা-বিদ্ধবৎ বেদনা বা জ্বালা, নাসিকায় সর্দি।
হিপার-সাফার ৬। প্রচুর পরিমাণে হরিদ্রাবর্ণের কফ উঠা, স্বরভঙ্গ।
ঠান্ডা জায়গায় বা ঠান্ডা জিনিষ খাইলেই কাসির উদ্রেক। শ্বাসরোধক কাসি কাসির জন্য উঠিয়া বসিতে হয়।
ফেরাম-ফস ৩০, ৬০।- প্রথম অবস্থায় জর ও রক্তাধিক্য সহ। কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাস; শ্লেষ্মা জমাট বাঁধিয়া যাওয়া।
বায়ুনলীভুজ-প্রদাহ
৩২৫ কেলি-মিউর ৩০, ৬০।- দ্বিতীয় অবস্থা; গাঢ় সাদা ও কঠিন গয়ার
উঠা।
কেলি-সাফ ৬০, ৩০০।- তৃতীয় অবস্থা অর্থাৎ প্রদাহ প্রশমিত হইবার পর। জলবৎ প্রচুর গয়ার উঠা।
নেট্রাম-মিউর ৬০, ৩০০।- ফেনিল স্বচ্ছ শ্লেষ্মা; রোগ পুরাতন আকার ধারণ করিলে।
ক্যাল্কে-ফস ৬০, ১২.৫। -অন্ডলালবৎ শ্লেষ্মা; রক্তস্বল্পতা; রোগ আরোগ্যোন্মুখ কালে।
নেট্রাম-সাফ ৬০, ১২০। শ্লেষ্মা তুলিতে কষ্ট হয়। কাসিবার সময় রোগী বক্ষঃ চাপিয়া ধরে।
ক্যাল্কে-সাল্ফ ৬০, ৩০০। শ্লেষ্মা হরিদ্রা বা পীতাভ বর্ণবিশিষ্ট। কখনও রক্তমিশ্রিত।
সিলিকা ৬০, ৩০০। ঘন হরিবর্ণের শ্লেষ্মাস্রাব; শীতল জল পানে কাসির বৃদ্ধি, গরম জল পানে কিঞ্চিৎ উপশম।
সাফার ৩০, স্পঞ্জিয়া ৩০, অ্যামন-কার্ব ৩ (গয়ার তুলিতে কষ্ট), সেনেগা ৪, কোনায়াম ৩, হাইওসায়েমাস ৩ প্রভৃতি ঔষধ সময় সময় আবশ্যক হয়।
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা। উচু বালিশে শয়ন করা ভাল। দুর্বল হইয়া পড়িলে মৎস্য বা মাংসের যূষ দেওয়া যাইতে পারে। ঠান্ডা লাগান অনুচিত।
মাষ-কালাইয়ের তৈল বুকে-পিঠে মালিশ করা ভাল।
পালনীয় নিয়ম। ঠান্ডা বা জলো হাওয়া লাগান বা আর্দ্র’ স্থানে বাস করা অনুচিত। গরম কাপড় জড়াইয়া থাকা ভাল।
পথ্য। দুধ, সাগু, বার্লি, ছোট মাছ বা কচি মাংসের ঝোল, ডালের ঝোল ও ফল ইত্যাদি।
অপথ্য। গুরুপাক দ্রব্য, টক, ডিম ইত্যাদি।
Leave a Reply