(Pleurisy)
ইহাকে বাংলায় বঙ্গাবরক-বিলী (বা ফুসফুস-বেষ্ট) প্রদাহ বলে। আমাদের উভয় ফসফসকে আবৃত করিয়া একটি তদুময় ‘পর্দা অবস্থান করিতেছে। ইহার নাম মুরা (pleura)। ইহা বিভাজ বিশিষ্ট একটি ভাঁজ ঠিক ফুসফুসের উপরে অবস্থান করে এবং অপরটি বক্ষঃপ্রাচীরের পশ্চাদ্দিকে সংলগ্ন থাকে। এই পর্দার প্রদাহ হইলে প্লুরিসি (pleurisy) বলা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় প্লুরার দুইটি ভাঁজের মধ্যে অল্প পরিমাণ একপ্রকার তৈলাক্ত পদার্থ’ নিঃসৃত হইয়া ফুসফুসের প্রসারণ সংঙ্কোচন সবল ও মসৃণ করিতে সহায়তা করে। পুরার প্রদাহের প্রথম অবস্থায় এই তৈলাক্স পদার্থ নিঃসরণ বন্ধ হইয়া পুরা শুল্ক ও খসখসে হইয়া যায় এবং তজ্জন্য প্রবল সূচীকিবৎ পার্শ্ব বেদনা, শুষ্ক কাসি, জদর প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই অবস্থাকে শুষ্ক বা Dry pleurisy বলা হয়। ইহার অব্যবহিত পরেই যদি রোগের উপশম না হয়, তাহা হইলে প্লুরার দুইটি ভাঁজের মধ্যে জল নিঃসূত হয় এবং সেইহেতু পার্শ্ববেদনা অন্তর্হিত হয়, কিন্তু জর চলিতে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইহার সহিত শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। এই অবস্থাকে আর্দ্র’ বা Wet pleurisy বলে। এক প্রকার জীবাণুই নাকি এই রোগের মুখ্য কারণ। ঠান্ডা-লাগা, ঋতু পরিবর্তন, সহসা ঘর্মরোধ, স্বাস্থ্য-ভঙ্গ, গুটিকাদোষ, পতন কিম্বা বক্ষে আঘাত লাগা প্রভৃতি এই রোগের গৌণ কারণ। এই রোগের পুনরাক্রমণের আশঙ্কা প্রায়ই থাকে। ইহা ব্যা রোগের পূর্বলক্ষণ রূপে অনেক সময় প্রকাশ পায়।
চিকিৎসা
অ্যাকোনাইট ৩। উত্তাপ, তৃষ্ণা, কম্প ও বাতজনিত বক্ষঃস্থলের বেদনা। প্রথমাবস্থায় তিন-চার মাত্রা সেবনে প্রায়ই রোগ উপশমিত হয়। অ্যাকোনাইটের পর প্রায়ই ব্রাইয়োনিয়া আবশ্যক হয়।
ব্রাইয়োনিয়া ৩-৩০। বক্ষঃস্থলে জালাকর বা হলবিদ্ধবৎ কিম্বা চিড়িকমারাবৎ বেদনা, একটু নড়িলে চড়িলে বা শ্বাস গ্রহণকালে বেদনার ছুরিসি
০২৭
বৃদ্ধি। শুক্ষ কাসি। হলদে জিনা। তিন্তু আস্বাদ ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রঙ্গণে।
এপিস ৬-৩০। স্বাসসকষ্ট রোগী মনে করে সে যেন আর শ্বাস গ্রহণ করিতে পারিবে না। ঘন ঘন কণ্টকর স্বাস-প্রশ্বাস; বাম পার্শ্বে শয়নে বৃদ্ধি। বামবঙ্গে সূচীবিশ্ববৎ যন্ত্রণা। সমগ্র বঙ্গে (সম্মুখভাগে) আালা ও জুলফটানবৎ যাতনা। গুদর, শুল্ক কাসি।
ক্যাম্পারিস ৬-৩০। স্বাসযন্ত্র শুল্ক ও পূর্বল মনে হয়। দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ফেলিতে বা কথা কহিতে রোগী ভয় পায়। ফুসফুস-বেষ্ট মধ্যে রসক্ষরণ, শুক্ষ কাসি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়ানি, ক্ষীণম্বর।
কার্নো-ভেজ ৬-৩০। ফুসফুস-বেষ্ট মধ্যে ক্ষরিত রস পূজে পরিণত
হইবার আশঙ্কা; রোগী দুর্বল ও অবসন্ন, পুরাতন ব্রঙ্কাইটিসের পরিণতি; পুরাতন ঘুরিসি সহ হাঁপানি। বুকে অগ্নিদগ্ধবৎ জ্বালা; কেবল বাতাস করিতে বলে। গয়ার টক বা নোনতা এবং দুর্গন্ধযুক্ত।
কেজি-বাইক্রম ৬-৩০।-চটচটে গয়ার, উহা ফেলিতে গেলে লম্বা হইয়া মুখ হইতে বুলিতে থাকে, মনে হয় টানিলে যেন সূত্রবৎ আরও জবা. হইবে। বুক সাটিয়া ধরে। ঘুম ভাঙ্গিবার পর হাঁপাইতে থাকে ও কাসে. গলা সুড়সুড় করিয়া কাসি। বুক ধড়ফড় করে, শ্বাসকষ্ট, মূইলে মনে হয় যেন শ্বাসরোধ হইবে। নাড়ী অসম, দ্রুত ও দুর্বল।
কেজি-মিউর ৬-২০০। চটচটে গয়ার, সহজে ফেলা যায় না, মুখে প্রাণিয়া থাকে। পাঁজরায় ব্যথা, শ্বাসকষ্ট।
সিমিসিফিউগা ৬। বন্ধুঃস্থলে বেদনা, কথা কহিতে গেলেই কাসি।
আর্সেনিক ৩০-৬। দীর্ঘকাল রোগে ভুগিলে শ্বাস-প্রশ্বাসকালে বঙ্গে চাপবোধ, মাঝে মাঝে দম আটকাইয়া যাওয়া, দেহ ঠাণ্ডা, অবসন্নতা।
আয়োডিন ৩। অত্যন্ত দুর্বল ও শীর্ণকায় হইলে বা দীর্ঘকাল ভুগিলে। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট, চিৎ হইয়া শুইলে এবং গরমে কাসির বৃদ্ধি প্রভৃতি লক্ষণে আর্সেনিকের পরিবর্তে আয়োডিন প্রযোজ্য।
হিপার-সাল্ফ ৬, ৩০, ২০০। অনেকদিন রোগে ভুগিতে থাকা, রোগের গতি মৃদু, শীঘ্র সারিবে মনে হয় না।
ফস্ফোরাস ৩-৩০। ফুসফুস আক্রান্ত হওয়া; গয়ারের রং মরিচা ৩২৮
পড়ার মত; অবসন্নতা, বিশেষতঃ দুর্বল ধাতু ও যক্ষ্মাপ্রবণ ধাতুবিশিষ্ট রোগীর পক্ষে ইহা সমধিক উপযোগী।
অ্যান্টিম-টার্ট ৬০-৩০ বিচূর্ণ। কাসি, গলায় শ্লেষ্মা ঘড়ঘড় করে,
বুকে চাপ বোধ, বমনেচ্ছা, প্রচুর গয়ার নিঃসরণ, বুক ধড়ফড় করা, নিঃশ্বাস আটাকাইয়া যাইবে ভাব।
আর্নিকা ৩০-২০০। আঘাতজনিত বা দীর্ঘকাল রোগ ভোগ করি-
বার পর প্লুরিসি হইলে।
মার্ক’-সল বা ভাইভাস ৬-৩০। নৈশ-ঘর্ম; রাত্রিতে সমস্ত উপসর্গের বৃদ্ধি। জ্বর কমিলেও যন্ত্রণাদি কমে না। পুঁজ-সঞ্চয়।’
সাফার ৩-৩০। (পুরাতন পাঁড়ায়) বক্ষঃবেদনার তীরতা কমিবার পর শ্বাস-প্রশ্বাস ও গয়ারে দুর্গন্ধ থাকিলে মাঝে মাঝে ব্যবহার্য্য।
ট্যানিক-অ্যাসিড ৬।-আপনা হইতেই প্রচুর পূজ নিঃসরণ।
সেনেগা ৬০-৩০ এবং ব্যাসিলিনাম ২০০ উপযোগী।
ফেরাম-ফস ৩০, ৬০। রোগাক্রমণের প্রথম পর্যায়; জার, বেদনা, পার্শ্বশাল। শ্বাসকৃচ্ছতা হেতু অগভীর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস।
কেলি-মিউর ৬০। রোগের দ্বিতীয় পর্য্যায়; ঘনীভূত শ্লেষ্মা, আঠালো, অতিকষ্টে তুলিতে পারে। সাদা বা ধূসরাভ ক্লেদাবৃত্ত জিহ্বা।
ক্যাল্কেরিয়া-ফস ৬০, ১২০।-পীড়ার তৃতীয় পৰ্য্যায়; পূজ সঞ্চার।
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা।-পূর্ণ বিশ্রাম আবশ্যক। উষ্ণ সেক বা পুল্টিস প্রয়োগ ব্যবস্থেয়। (“ফুসফুস-প্রদাহ” দ্রষ্টব্য)।
পালনীয় নিয়ম। রাত্রি জাগরণ, দিবানিদ্রা, ক্রোধ, পরিশ্রম, ঠান্ডা লাগান, স্ত্রীসহবাস প্রভৃতি পরিত্যাজ্য এবং আর্দ্র (moist) স্থানে বসবাস
অনুচিত।
পথ্য। মাখন, ঘৃত, দুগ্ধ, ফল, রুটি, মাছ, মাংস ইত্যাদি ব্যবস্থা।
অপথ্য। গুরুপাক ও টক দ্রব্য, ইত্যাদি।
Leave a Reply