পুরাতন সদ্দি

Written by

in

(Chironic Catarrh)

পূনঃ পুনঃ তরুণ সর্দির আক্রমণ, নাসাপথে ধূলিকণা বা উগ্র পদার্থের প্রবেশ, উপদংশাদি জনিত ধাত-বিকৃতি প্রভৃতি কারণে সর্দি পুরাতন আকার ধারণ করে।

পুরাতন সর্দি দ্বিবিধঃ-(১) নাসা-সর্দির বিবৃদ্ধি-অবস্থা, (২) নাসা-সর্দির শীর্ণ অবস্থা।

(১) নাসিকার শ্লৈষ্মিক-ঝিল্লীর পুরাতন প্রদাহজনিত নাসা-তন্ধু ও বিলীচয়ের বিবৃদ্ধি সহ শ্বাসকষ্ট বিদ্যমান থাকিলে, “নাসা সর্দির বিবৃদ্ধি অবস্থা” বুঝিতে হইবে” প্রভূত তরল নাসাস্রাব, এক বা উভয় নাসারন্ধ্র বুজিয়া যাওয়া, পরে গাঢ় রজ্জবৎ শ্লেষ্মা-নিঃসরণ; গলমধ্যে ও নাসিকা হইতে সর্দি উঠাইবার জন্য অনবরত গলা “খাকারি (hawk)” দেওয়া, মাথাব্যথা, এবণ-

শক্তির হ্রাস, স্নায়ুশূল প্রভৃতি এই অবস্থার প্রধান লক্ষণ।

(২) নাসিকার শ্লৈষ্মিক ঝিলীর পুরাতন প্রদাহজনিত নাসা-তহু ও বিল্লীচয়ের শীর্ণতা সহ নাসারন্ধ্র হইতে দুর্গন্ধ স্রাব বাহির হইতে থাকিলে, “নাসা-সর্দির শীর্ণ অবস্থা” বুঝিতে হইবে। প্রায়শঃ পূর্বোক্ত “বিবৃদ্ধি অবস্থার” পর এই অবস্থা ঘটে। নাসিকা শুষ্ক হওয়া বা মামড়ী পড়া, শ্লেষ্মা-স্রাবসহ রক্তের ছিট থাকা, নাসিকা হইতে দুর্গন্ধ স্রাব নির্গমন, ঘ্রাণ-শক্তির হ্রাস বা লোপ এই অবস্থার বিশেষ লক্ষণ।

চিকিৎসা

পালেন্সটিলা ৬-৩০।-পুনঃ পুনঃ তরুণ সর্দির পর পুরাতন সর্দি’। গাঢ় সবুজ বা হরিদ্রাবর্ণ’ স্রাব, স্বাদ বা ঘ্রাণশক্তির হ্রাস। সর্দি কখন কখনও

৩১৮

হোমিও পারিবারিক চিকিৎসা

দুর্গন্ধযুক্ত হয়; গরম ঘরে বা সন্ধ্যাকালে উপসর্গসমূহ জায়গায় কমে। বাড়ে ও খোলা

কেলি-সাল্ফ ৩-১২। পাল্সেটিলায় রোগ কতকটা ঘড়মড়ে সর্দি অবশিষ্ট থাকিলে অথবা পাল্সেটিলায় কোন ইহাতে উপকার দর্শে’। উপশমিত হইয়া কাজ না হইলে

লাইকোপোডিয়াম ৩০।-পুরাতন অবস্থার একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ।

রাত্রিকালে নাক বুজিয়া থাকে ও তজ্জন্য রোগীকে মুখ দিয়া শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া সম্পন্ন করিতে হয়।

কিক্টা ১৫-৩। নাক বুজিয়া যাওয়া, নাসিকার উপর কপালে বেদনা, নাসিকা শুক্ষ বা মামড়ীযুক্ত, শুষ্ক কাসি (শ্বাস গ্রহণে বৃদ্ধি), ক্রমাগত নাক ঝাড়া, কিন্তু সর্দি’ নিঃসূত না হওয়া (শীর্ণ’ অবস্থার ঔষধ)।

কেলি-বাইক্রম ৩-৬।-(স্টিন্টা অপেক্ষা ইহার ক্রিয়া গভীরতর)

নাসিকা হইতে গাঢ় দুশ্ছেদ্য রজ্জবৎ স্রাব, নাক ঝাড়িলে সর্দি সূতার মত ঝুলিতে থাকে, নাসামূলে চাপবোধ, মামড়ী পড়ে বা নাসিকায় ক্ষত হয়. নাসিকা হইতে দুর্গন্ধ বাহির হয় (উপদংশ বিষদুষ্ট হউক বা না হউক)।

কেলি-আয়োড ৪, ৩০। (কেলি-বাইক্রমের মত লক্ষণচয়: উপদংশজনিত রোগ) দুশ্ছেদ্য বা সবুজাভ কৃষ্ণবর্ণ কিম্বা হরিদ্রাবর্ণের স্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত সর্দি’ বা ক্ষত। পারদ অপব্যবহার জনিত উপসর্গ’।

অ্যান্টিম-টার্ট ৬-৩০।-তরল ঘড়-ঘড়ে কাসি, কিন্তু কাসিলেও সর্দি’ উঠে না। কাসিতে কাসিতে হাঁপাইয়া পড়ে। বমনেচ্ছা ও সময় সময় বমন। বর-ভঙ্গ।

অরাম-মেট ৬০-২০০। উপদংশজনিত সর্দিরোগে নাসিকা ক্রমে ক্ষয় পাইতে থাকিলে; নাসিকায় মামড়ী, নসিকা ক্ষতযুক্ত, নাক সতত বৃজিয়া থাকে, গাঢ় দুর্গন্ধ স্রাব, নাসিকার অস্থিক্ষয়। সদাই বিমর্ষ ভাব বা আত্মহত্যা করিবার ইচ্ছা। পারদ বা কেলি-আয়োডের অপব্যবহার হইয়া থাকিলে ইহা সমধিক উপযোগী।

হিপার-সাফার ৩০। শীতল বায়ুর সংস্পর্শে নাক বুজিয়া যায়; প্রমেহ বা উপদংশ ধাতুগ্রস্ত ব্যক্তিগণের বা যাহাদের সহজেই খোস-পাঁচড়া প্রভৃতি হইয়া থাকে তাহাদের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *