আপনার আপলোড করা ছবি থেকে বাংলা টেক্সট নিচে দেওয়া হলো:
## শ্বাসযন্ত্রের পীড়া
**(Diseases of the Respiratory Organs)**
সূচনা।—ডাক্তার ফ্রেজার বলেন যে, কেবল “ঠাণ্ডা লাগানোই” শ্বাসযন্ত্রের অর্ধেক পীড়ার কারণ। তাঁহার মতে মাথাধরা, কাশি, জ্বর, শুষানি, নাকগলা-প্রদাহ, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, স্বরভঙ্গ, ব্রঙ্কাইটিস জ্বর, কাসিতে রক্ত পড়া, হুপিং-কাশি, কুষ্ঠরোগ, হাম, চোখ উঠা, মস্তিকের ঝিল্লিবেষ্টনী প্রদাহ, চক্ষু প্রদাহ, পক্ষাঘাত, কর্ণশূল, অনৈচ্ছিক বেদনা প্রভৃতি নানাবিধ রোগে ঠাণ্ডা লাগানোই পূর্ব্ববর্ত্তী বা উত্তেজক কারণ। অতএব ঠাণ্ডা যাহাতে না লাগে সে বিষয়ে সকলেরই সর্ব্বদা সতর্ক থাকা উচিত।
হোমিও পারিবারিক চিকিৎসা
তরুণ সদি
(Coryza or Catarrh)
বাসনলীর কতক অংশ প্রদাহযুক্ত হইয়া “সদি” হইয়া থাকে। কেবল নাসিকার শ্লৈষ্মিক বিলীসমূহ প্রদাহযুক্ত হইলেও সর্দি’ হয় এবং নাসিকা ও গলদেশের শ্লৈষ্মিক-বিলীচয় প্রদাহযুক্ত হইয়া সর্দি-জনর উৎপন্ন হয়। পীড়ার প্রারম্ফে শরীরের গ্লানি। গা-ভাঙ্গা হাই উঠা মাথাব্যথা মাথাঘোরা: চচ্ছ লালবর্ণ; প্রবাস উত্তস্ক: টাকরা সুড়সুড় করা; বারবার হাঁচি এবং সেইসঙ্গে চোখ ও নাক দিয়া জল পড়া প্রভৃতি উপসর্গ ঘটে। পরে অল্প অল্প শীত; নাড়ী দ্রুত ও চঞ্চল; শুষ্ক কাসি; স্বরভঙ্গ; মন ও হলদে সর্দি উঠা: হুয়ামান্দ্য; সর্বাঙ্গে বেদনা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। “মাইক্রোকক্কাস-কেটারেলিস” প্রভৃতি জীবাণু “সর্দি”র মুখ্য কারণ বলা হয়। অধিকক্ষণ আর্দ্র’ বল্লে থাকা, বৃষ্টিতে ভিজা, হিম বা ঠান্ডা লাগান, হঠাৎ ঘাম বন্ধ হওয়া, বদহজম বা পেটগরম হওয়া প্রভৃতি “তরুণ সর্দি”র গৌণ কারণ।
চিকিৎসা
স্পিরিট-ক্যাফার। (পীড়ার প্রথমাবস্থায়) যখন অল্প অল্প, শীতবোধ হয়, গা ভাঙ্গে ও নাক দিয়া কাঁচা জল ঝরে অথচ জার থাকে না।
অ্যাকোনাইট ৩০। পীড়ার প্রথমাবস্থায় অল্প অল্প শীতসহ জরভাব; হাই উঠা, গা-ভাঙ্গা; চচ্ছ জ্বালা; সজল চক্ষু উত্তপ্ত প্রশ্বাস; বারম্বার হাচি; মাথা ভার; তরল শ্লেষ্মাস্রাব ও অত্যন্ত গ্লানি; গা খসখসে; প্রবল তৃষ্ণা; নাক দিয়া জল ঝরা (অ্যালিয়াম-সেপা), শীতকালের হিম বা শুষ্ক বাতাস লাগিয়া সর্দি’।
ডাল্কামারা ৩। আর্দ্র বায়ু (বর্ষাকালের বায়) লাগিয়া সর্দি।
ব্রাইয়োনিয়া ৩০, ৬, ৩০। শ্বাসনলীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীতে জাজাকর প্রদাহ; কষ্টকর শুষ্ক থকথকে কাসি; কাসিতে কাসিতে অল্প শ্লেষ্মাস্রাব; শ্লেষ্মাতে নাসারন্দ্র রুদ্ধ হওয়া; কাসিবার সময় বন্ধুঃস্থলে বেদনা; চক্ষু দিয়া জল পড়া; পাকস্থলীর ক্রিয়া-বৈলক্ষণ্য; বক্ষঃপার্শ্বে সূচীবিদ্ধবৎ বেদনা: ফাকা জায়গা হইতে ঘরের ভিতর আসিলে কাসির বৃদ্ধি। পানাহারে কাসির বৃদ্ধি। গা-বমি-বমি করিয়া কাসি, কাসিতে কাসিতে বমি।
তরুণ সর্দি
৩১৫
নাক্স-ভূমিকা ৩-৬। দিনের বেলায় উভয় নাকই খোলা থাকে, কিন্তু
রাত্রিতে এক নাক বুজিয়া যায়। সর্দি দিবাভাগে তরল, রাত্রিকালে ও ফাঁকা জায়গায় শুল্ক এবং নাক সাঁটিয়া ধরা। শিশুদের নাক বুজিয়া যায় (অ্যামন-কার্ব, স্যাম্পুকাস)। খোলা বাতাসে ভাল থাকে, গরম ঘরে উপসর্গ বাড়ে।
জেন্সিমিয়াম ৩০।-পৃষ্ঠদেশে শীত করিয়া জার আসা, জরারম্ভের
পূর্বে মাথা গরম; পিপাসা মাথা ভার মুখমণ্ডল লালবর্ণ, সজল চন্থ; সর্দিজনিত চক্ষু-প্রদাহ, নাড়ী কোমল বা ধীরগতি, গলায় বেদনা, কাসি ও স্বরভঙ্গ, গ্রীষ্মকালের ঠান্ডা লাগা হেতু সর্দি।
আর্সেনিকাম-অ্যালব্রাম ৩০-৬। নাসারন্ধ্র হইতে অধিক পরিমাণে
ভরল ‘উত্তপ্ত ও জালাকর শ্লেষ্মাস্রাব, বারম্বার হাঁচি, চক্ষু দিয়া জল পড়া. অত্যন্ত গ্লানি ও তন্দ্রালুতা, অবসন্নতা, নাসিকা, চক্ষু, স্বরনলী ও কন্ঠনলীর অসুস্থতা।
পাল্সেটিলা ৩, ৬, ৩০। (পাকা সর্দির উৎকৃষ্ট ঔষধ), নাসিকা হইতে দুর্গন্ধযুক্ত হরিদ্রাভ শ্লেষ্মাস্রাব, কর্ণ ও মস্তকের পার্শ্বে তীব্র বেদনা. মাথা ভার; কোন দ্রব্যের স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতির অভাব, উষ্ণ গৃহে এবং সন্ধ্যায় পীড়ার বৃদ্ধি।
মার্কিউরিয়াস ৬। গলায় ও নাসিকায় বেদনা ও ক্ষত, বারম্বার হাঁচি,
পূজের ন্যায় হরিদ্রাবর্ণের গাঢ় শ্লেষ্মাস্রাব, পর্যায়ক্রমে শীত ও উত্তাপ. চক্ষু-প্রদাহ, সন্ধ্যাকালে পীড়ার বৃদ্ধি, গলা ও গালের বাঁচি আওরান বা টাটাইয়া উঠা, প্রচুর ধর্ম, গলক্ষত, নাসিকা হইতে দুর্গন্ধযুক্ত সবুজ পূজ নিঃসরণ।
মার্ক-কর ৩০-২০০।- খুব হাঁচি, জ্বালাকর ও ক্ষতকর তরল সর্দি’। নাক-জজ্বালা ও নাকে ঘা। পুঁজের মত দুর্গন্ধ শ্লেষ্মা, হরিদ্রাভ সবুজ স্রাব: রাত্রিকালে এবং ঠাণ্ডায় বৃদ্ধি।
এরাম-ট্রাইফাইলাম ৬। শরীরের কোন অঙ্গে সর্দি লাগিলে সেই স্থান হাজিয়া যাওয়া (অ্যালিয়াম-সেপা), গলমধ্যে ঘা।
অ্যামন-কার্ব ৩। শেষ রাত্রিতে কাসির বৃদ্ধি। জলবৎ স্রাব, রাত্রিকালে ছোট ছেলেদের নাক বুজিয়া যায়, সেইজন্য নাক দিয়া’ নিঃশ্বাস ফেলিতে বা প্রশ্বাস গ্রহণ করিতে পারে না।