(Otitis)
প্রায়ই ঠান্ডা লাগিয়া “তরুণ কণ’-প্রদাহ” উপস্থিত হয় এবং কন্ঠ বা নাসা-গলকোহের দুষিত অবস্থা কিবা কর্ণ-গদর বা চর্মপীড়ার সহিত ইহা সচরাচর সংশ্লিষ্ট থাকে। কানের ভিতরে দপদপে বেদনা, স্ফীতি ও লালবর্ণ হওয়া এবং জার ও অম্লাধিক বধিরতা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। কখনও বা হঠাৎ বেদনা নিবৃত্ত হইয়া কান দিয়া পুঞ্জ পড়িতে থাকে। প্রথম হইতে চিকিৎসা না করিলে কর্ণের গভীর অংশ পর্য্যন্ত আক্রান্ত হয় ও ক্রমে দুর্গন্ধ স্রাব নিঃসৃত হইতে থাকে।
সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা। অ্যাকোন ১০ (প্রদাহের প্রথমাবস্থায়); বেল ৩০ (মস্তিষ্কের উপসর্গাদি ও রক্ত সঞ্চয়ে); বেলেডোনায় কাজ না হইলে ফেরাম-ফস ox, ১২x; পাল ৬ (হামের পর কর্ণ-প্রদাহ, ছিন্নকর বা তীরবিদ্ধবৎ বেদনায়); মার্ক’-ভাই ৩০ বিচূর্ণ (বসন্ত রোগের পর কর্ণ-প্রদাহ: দন্ত পর্যন্ত বেদনার বিস্তার বা উষ্ণ শয্যায় শয়নে বেদনা বর্ধিত হইলে); ক্যামোমিলা ১২, ৩০ (অসহ্য বেদনায়); সাল্ফার ৩০ (আরোগ্যোম্পুখ-কালে)।
কয়েকটি ঔষষের প্রক্ষণ। প্রথমাবস্থায় (বিশেষতঃ শিরঃপীড়া ও গলার যাখায়) বেলেডোনা ৩x সেবন ও স্নানেল গরম করিয়া সেক দেওয়া বিষেয়। সর্দিজনিত কর্ণ-প্রদাহে পাল্সেটিলা ৩; কিন্তু যদি কর্ণ-গর্ভ’ পর্য্যন্ত বেদনা প্রসারিত হয় এবং সেই সঙ্গে জর থাকে-অ্যাকোনাইট ৩০; সাঁচ-ফোটানোর ন্যায় বেদনা ও কর্ণমূলে অসহ্য বেদনায়-ক্যামোমিলা ৬; কানে টনটনে বেদনা ও গ্রন্থি ফুলিলে মার্ক-সল ৬, আর্স-আয়োড ৩০। উক্ত ঔষধগুলি প্রয়োগে বেদনা না কমিলে প্ল্যান্টেগো ও কানে কয়েক ফোঁটা দিবে। পাঁড়া পুরাতন হইলে কেলি-মিউর ৩০, নাইট্রিক-অ্যাসিড ৬ বা সাফার ৩০, ২০০ ব্যবস্থা। কর্ণের বহির্ভাগে প্রদাহ ও তথায় ছোট ছোট পুঁজবটি বা ফুস্কুড়ি হওয়া লক্ষণে ক্যাল্কেরিয়া-পিক্রেটা ৩ সেব্য।
আনুষঙ্গিক চিকিসা। কর্ণ’রন্দ্রে যাহাতে ঠান্ডা না লাগে এরূপভাবে গুলা বা স্নানেল দিয়া কান ঢাকিয়া রাখা বিষেয়। লবণের পুঁটুলি গরম
করিয়া সেক দিলে এবং দুই-তিন ফোঁটা মূলেন অয়েল (এসেন্স) বা পাল্সেটিলা ও কিম্বা ঈষদুষ্ণ সরিষার তৈল কানে দিলে প্রদাহ ও ব্যথার উপশম হয়।
Leave a Reply