(অপথালমিয়া)
৫২৪
হোমিও পারিবারিক চিকিৎসা
চক্ষু-প্রদাহ বা চোখ উঠা
(অপথালমিয়া)
চোখে ধূলি-কণা, ধূম, রৌদ্র, হিম, শীতল বাতাস, আঘাত প্রভৃতি কারণে চোখ উঠে। বসন্ত এবং প্রমেহ হেতুও চক্ষুপ্রদাহ হইয়া থাকে। অনেক সময় এই রোগ ছোঁয়াচে (contagious)।
এক্ষণ-চতুর শেতাংশ লালবর্ণ, চোখ দিয়া জল বা পুঁজ পড়া, চচ্ছ জুড়িয়া যাওয়া, পিচুটি গড়া, বালি পড়া বা কাঁটা-বেধার ন্যায় বেদনা, কুটকুট করা, আলোক অসহ্য বোধ প্রভৃতি।
চিকিৎসা
ফেরাম-ফস ৩০, ৬০-সামান্য রকম চক্ষু-প্রদাহ।
বেলেডোনা ৩৫-উজ্জজ্জ্বল লালবর্ণ চক্ষু, অত্যন্ত বেদনা, চক্ষু ফুলিয়া
থাকে ও চচ্ছ বা কপালের পার্শ্ব দপদপ করে, উভয় গাল লালবর্ণ; আলোক বা সূর্য্যোত্তাপ সহ্য হয় না।
অ্যালিউমিনা ৩০-চক্ষু অতিশয় শুষ্ক (বা অনুগ্রহীন) থাকিলে।
অরাম-মেট ৬-উপদংশজনিত চক্ষু-পীড়া।
অ্যাকোনাইট ৩০, ৬-বাত, প্রমেহ বা সর্দিজনিত তরুণ প্রদাহ, জরভাব। ইউফ্রেসিয়া ৪ (১০ ফোটা জল ১ আউন্স) ধাবন ব্যবহার করা বিধেয়। নিতান্ত অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে সাল্ফ ৬, ৩০ প্রযোজ্য। অ্যাকোন ফলপ্রদ না হইলে এবং অধিক পূজ না থাকিলে, রাস-টক্স ৬।
মাকিউরিয়াস-কর ৩-চোখ দিয়া জল পড়ে, পিচুটি পড়ে, চচ্ছ, জুড়িয়া যায়, করকর করে, গরম ও বেদনাবোধ হয়। আলোক অসহ্য ও অতিশয় কুটকুট করে। প্রমেহজনিত চক্ষু-প্রদাহে মার্ক-করের পর হিপার-সালফার ৬ উপযোগী। হিপার-সালফার ব্যর্থ হইলে সিলিকা ৬ ব্যবস্থেয়। পাল্সেটিলাও দ্রষ্টব্য।
এপিস-মেল ৩০-অধিক পূজস্রাব, আলোক অসহ্য, জজ্বালা, চুলকান, হলফটার ন্যায় বেদনা, চোখের পাতার স্ফীতি।
ইউফ্রেসিয়া ৩০-চক্ষু রক্তবর্ণ; আলোক অসহ্য; নাক ও চোখ দিয়া
চক্ষু-প্রদাহ বা চোখ উঠা
৫২৫
প্রচুর জল নিঃসরণ, বেদনা, বারম্বার হাঁচি; চক্ষুর শ্বেতাংশে ও চক্ষু-তারার পার্শ্বে ছদ্র ছদ্র ফুস্কুড়ি উদ্গম; চক্ষু হইতে পূজস্রাব এবং সূত্রবৎ পূজ চক্ষুর উপরে পড়িয়া দৃষ্টির ব্যাঘাত হইলে ইউফ্রেসিয়া দশ ফোঁটা এক আউন্স জলে মিশাইয়া চচ্ছা ধৌত করা বিধেয়। চোখ উঠার ইহা একটি উত্তম ঔষধ।
আর্জেন্টাম-নাইট্রিকাম ৩, ৩০-প্রচুর পূজস্রাব (বিশেষতঃ শিশুদিগের চচ্ছ-প্রদাহে); পুরাতন চক্ষু-প্রদাহে যখন ঈষৎ হরিদ্রাবর্ণের পূজস্রাব হইতে থাকে, অথচ কোন যন্ত্রণা থাকে না।
হিপার-সাফার ৬, ৩০- প্রমেহজনিত চক্ষু-প্রদাহ; চক্ষুতে স্পর্শকাতরতা; বেদনা ও ঠান্ডা অসহ্য।
নাইট্রিক-অ্যাসিড ৬, ২০০-উদংশজনিত চক্ষু-প্রদাহ; প্রমেহজনিত
চক্ষু-প্রদাহ।
জেকুইরিটি ৩০-পূজস্রাবী, শুরুমণ্ডল-প্রদাহ, মুখমণ্ডল ও গ্রীবাদেশ পর্য্যন্ত এই প্রদাহের বিস্তৃতি, দানাযুক্ত চক্ষু-প্রদাহ, (১০ ফোঁটা ১ আউন্স জলসহ চোখে প্রয়োগ করা বিধেয়)।
সাফার ৩, ৩০-চক্ষু-তারার প্রদাহ ও উহার চতুষ্পার্শ্বে রক্তবর্ণের চাকা চাকা ক্ষত; সূচীবিদ্ধবৎ তীব্র বেদনা; জল লাগিলে বেদনার বৃদ্ধি; গণ্ডমালাজনিত চক্ষু-প্রদাহ।
চক্ষুর শ্বেতাংশের উপর ছোট ছোট দানা হইলে মার্ক-সল ৬, ৩০;
চক্ষুর প্রদাহসহ চোখের পাতায় ঐরূপ দানা হইলে পাল্স ৬ বা সাল্ফ ৩০; প্রদাহসহ পূজ নিঃসৃত হইলে-আর্জেন্ট-নাই ৩, ৩০। (২ ফোটা আর্জ-নাই অর্ধ আউন্স পরিষ্কৃত জলে মিশাইয়া চক্ষু ধৌত করা বিধেয়)।
ফস্কো ৬, জেন্স ৬, ক্যাল্কে-আয়োড ৬%, সিলিকা ৬; স্ট্যাফি ৬, আর্সেনিক ৬, জিঙ্কাম ৬ প্রভৃতি আবশ্যক হইতে পারে।
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা-হলদে বা সবুজ ন্যাকড়া দ্বারা চক্ষু ঢাকিয়া রাখা বা রঙ্গীন শক্তিবিহীন নীল চশমা (Eye-glass) ব্যবহার করা ভাল।
পালনীয় নিয়ম-লেখাপড়া বা সেলাই প্রভৃতি চোখের কাজ পরিহার করা কর্তব্য।
পথ্য-লঘু ও পুষ্টিকর খাদ্যাদি।
চচ্ছ-প্রদাহ ভূমিষ্ঠ হওয়ার কয়েকদিন পরে কোন কোনও শিশুর চক্ষু-প্রদাহ ঘটিতে দেখা যায়। চক্ষু ফলিয়া উঠে, লাল হয়, পুঁজ পড়ে, জ.ডিয়া যায় এবং সময় সময় চক্ষুতে ক্ষত পর্য্যন্ত হইয়া থাকে। বেশীদিন ঐরূপ পূজস্রাব হইলে চক্ষু নষ্ট হইবার সম্ভাবনা, সুতরাং রোগের সূচনাতেই সূচিকিৎসা কর্তব্য। আর্দ্র গৃহে বাস, ঠান্ডা বাতাস বা হিম লাগা, চছে
শিশুদের পীড়া ও চিকিৎসা
৮১৭
অধিক আলোক, ধোঁয়া বা ধূলা কিম্বা আতুড় ঘরে অধিক সে’ক-তাপ প্রয়োগ বা পিতামাতার কোনরূপ ধাতুরোগ জনিত এই ব্যাধি জন্মিতে পারে।
আর্জ’-নাই ৩ চক্ষু-প্রদাহের একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ। ঠান্ডা বা হিম কিবা বেশী আলো লাগিয়া চক্ষু-প্রদাহ হইলে এবং জনর, অস্থিরতা, অনিদ্রা, চোখ দিয়া অধিক জল নিঃসরণ, অক্ষি-গোলকের (তারা) রক্তিমা প্রভৃতি লক্ষণে-অ্যাকোন ৩x প্রযোজ্য। হাম-বসন্ত প্রভৃতির পর এই রোগ হইলে-এপিস ৩, আঘাতজনিত চক্ষু-প্রদাহে-আর্ণিকা ৩ প্রযোজ্য।
৩ ও চক্ষুর পাতা স্ফীত ও লালবর্ণ এবং সময় সময় রক্তপ্রবি লক্ষণে-বেলেডোনা ৬। চক্ষুর পাতা স্ফীত ও উহার প্রান্তভাগে ফুস্কুড়ি এবং অধিক পরিমাণে পূজ-সঞ্চয় লক্ষণে মার্ক-সল ৬। আর্জেন্টাম-নাইট্রি ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব ৬ সময় সময় আবশ্যক হয়। ঈষদুষ্ণ জলে পরিষ্কার পাতলা নরম ন্যাকড়া ভিজাইয়া উহা বেশ করিয়া নিংড়াইয়া ধীরে ধীরে অত্যন্ত সাবধানতাসহ চক্ষু হইতে পুজ, পিচুটি প্রভৃতি বাহির করিয়া ফেলা বিধেয়। চক্ষুর পাতা জুড়িয়া গেলে, উহা যেন টানিয়া খোলা না হয়; কিছুক্ষণ চক্ষুর পাতার উপর অল্প অল্প জল দিলে তাহা আপনা হইতেই খুলিয়া যায়, জল খুব পরিষ্কার হওয়া বিধেয়। চক্ষু পরিষ্কার করিবার পর এক ফোঁটা আর্জেন্টি-নাইট্রি ২০, ৩০ তরল ক্রম উভয় চক্ষুর মধ্যে ঢালিয়া দিলে উপকার হয়। অন্যান্য ঔষধ ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসার জন্য এই গ্রন্থের “চক্ষু-প্রদাহ” অধ্যায় দ্রষ্টব্য।
পিতামাতার ধাতুদোষজনিত “চক্ষু-প্রদাহ” হইলেইথুজা ৩০, অরাম-মিউর ২০০, অ্যাসিড-নাইট্রিক এইসব ঔষধের বিশেষ বিবরণাদির মার্কিউরিয়াস-সল ৩, সাল্ফার ৩০. ৬. ২০০ প্রভৃতি আবশ্যক হইতে পারে। জন্য আলোচ্য বাল-রোগাধ্যায়ে “কৌলিক পীড়া” দ্রষ্টব্য।
Leave a Reply