চক্ষুর ছানি (Cataract)

Written by

in

চক্ষুর ছানি

(ছানি)

তারকামণ্ডলের (iris) পশ্চাতে স্বচ্ছ শুন্ডু-নির্মিত দুইদিক চাপা এক গোলক আছে। ইহাকে লেন্স (lens) বলা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় ইহার ভিতর দিয়া আলোক-রশ্মি সহজেই অক্ষিপটের (retina) উপর পড়ে। এই রোগে উক্ত লেন্সের অভ্যন্তর অস্বচ্ছ হইয়া যায় এবং সেই কারণে দৃষ্টিশক্তির বিঘ্ন ঘটে। এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় এই লেন্স অস্ত্রোপচার করিয়া বাহির করিয়া লওয়া হয় এবং তৎপরিবর্তে বাহিরে চশমার সাহায্যে এই অভাব পূরণ করা হয়। ইহাকেই ছানিকাটান বলে। ছানি এক বা উভয় চোখেই পড়িতে পারে।

চিকিৎসা

“সিনেরেরিয়া-মেরিচিমা-সাক্কাস”-তরুণ ও পুরাতন সর্বপ্রকার ছানির

উৎকৃষ্ট ঔষধ। ইহা আক্রান্ত চোখে এক ফোঁটা করিয়া দিবসে তিনবার দীর্ঘকাল বাহ্যপ্রয়োগে বহুলোক বিশেষভাবে উপকৃত হইয়াছে, অন্ততঃ রোগ আর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় নাই (disease arrested), এই ঔষধ ব্যবহারকালে ক্যাল্কেরিয়া-দুয়োরেটা ১২০ বিচূর্ণ বা কোনায়াম ২০০ সেবন করিলে বিশেষ উপকার দর্শে’। ইহাতে উপকার না হইলে, ক্যানাবিস-ইন্ডিকা ৩ সেব্য। দুয়োরিক-অ্যাসিড ৬ সেবনে কেহ কেহ রোগমুক্ত হইয়াছেন।

৫৩৩

পীড়ার প্রথম অবস্থায় আয়োডোফরম ২ বিচূর্ণ (বিশেষতঃ বৃদ্ধ লোকদিগের চক্ষুর ছানিতে), ক্যাল্কে-ফস ৩০ বিচূর্ণ (বিশেষতঃ দক্ষিণ চক্ষু আক্রান্ত হইলে)। কষ্টিকাম ৬, সিপিয়া ১২, লাইকোপোডিয়াম ১২, ফস্ফোরাস ৬ প্রভৃতি ঔষধ ব্যবস্থা করিলে বিশেষ উপকার হয়।

চক্ষুমধ্যে কাঁটাদি বা অন্য বস্তু পতন।- “আকস্মিক দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা” অধ্যায়ে ‘নাসিকা, চক্ষু বা কর্ণে কাঁটাদি প্রবেশ’ দ্রষ্টব্য।

চক্ষু রোগের কয়েকটি উপসর্গ ও চিকিৎসা

চক্ষুতে জবালাবোধ-জেন্স ৩, আর্স ৬, গাফ্ফার ৩০।

চক্ষুতে ঠাণ্ডাবোধ অ্যাসিড-ফস ৬।

চক্ষু ভারবোধ বা চক্ষু উন্মীলনে অক্ষমতা-জেলিমিয়াম ১০।

চক্ষু স্ফীত হওয়া-এপিস ৩, রাস-টক্স ৬।

চক্ষু-স্পন্দন (গোলক বা পাতা নাচা)। অ্যাগারিকাস ৬, পাল্স ৩।

চক্ষু সদা চুলকাইলে সাফার ৩০, পাঙ্গ ৩।

চক্ষু দিয়া জল পড়া-ইউফ্রেসিয়া ২০, পাল্স ৩। উত্তপ্ত জল পড়া-আর্স ৩০, ৩০। স্নিগ্ধ জল পড়া-পাল্স ৩, ৩০।

চক্ষু টাটানি বা বেদনাযুক্ত হওয়া (চক্ষু স্পর্শ করা যায় না) নেট্রাম-মিউর ১২০ বিচূর্ণ, ৩০, ব্রাইয়ো ৬, হিপার ৬, বেল ৩।

চক্ষুতে স্নায়ুশূল বেদনা-আর্সেনিক ৩; জেঙ্গিমিয়াম ১০, ৩, স্পাইজিলিয়া ৬, ৩০।

চক্ষু যেন ভিতরের দিকে আকৃষ্ট হইতেছে এইরূপ অনুভব-অ্যাসিড-ফস ৬, ক্রোটন ৬। যেন বাহিরের দিকে আকৃষ্ট হইতেছে এইরূপ অনুভব-ব্রাইয়োনিয়া ৬, লাইকো ১২।

চক্ষু থেঁৎলাইয়া যাওয়ার মত বেদনা বোধ-আর্ণিকা ৩, জেল্স ১৪।

চক্ষুতে সংচ-বেধা বা কাটিয়া যাওয়ার মত বেদনা বোধ-ব্রাইয়োনিয়া ৬০, ৩০, নাইট্রিক-অ্যাসিড ৬।

চক্ষুতে ফলক বেধাবৎ (splinter-like) বেদনা অনুভূত হইলে-অ্যাসিড-নাইট্রিক ৬, ৩০; খুজা ৩০, এপিস ৬, অরাম মেটালিকাম ৬, হিপার সাল্ফার ৩০।

৫৩৪

চক্ষুতে হল-ফুটান মত বেদনা-এপিস ৬।

চক্ষুতে ছিড়িয়া ফেলার মত বেদনা-পাল্স ৩, অরাম-মিউর ৬, অ্যাকোনাইট, ৩, ক্যাল্কে-কার্ব ৬, ইউফ্রেসিয়া ৬। অসহ্য বেদনায়-ক্যামোমিলা ১২।

চক্ষুতে দপদপ অনুভূত হইলে-বেল ৬. হিপার ৬, অ্যাসাফিটিডা ৬, ব্রাইওনিয়া ৩০।

চক্ষু-বেদনা সহসা বাড়ে ও সহসা কমে বেল ৬, সিড্রন ৬।

চক্ষু-বেদনা ধীরে ধীরে বাড়ে ও ধীরে ধীরে কমে ষ্ট্যানাম ৬।

চক্ষু-বেদনা প্রত্যহ ঠিক একই সময় আরম্ভ হয়-সিজন ৩।

চক্ষু-বেদনার পর তৎপ্রদেশে অসাড় বোধ-মেজেরিয়াম ৬।

বেদনা চক্ষুর চারিদিকে বিস্তৃতিতে স্পাইজি ৩, মেজেরিয়াম ৩০।

বেদনা চক্ষুর ভিতর দিকে বিস্তৃত হইলে অরাম ৬০, ৩০।

বেদনা চক্ষুর বাহিরের দিকে বিস্তৃত হইলে-অ্যাসাফিটিডা ৩।

চক্ষুতে বেদনাযুক্ত ক্ষত-কোনায়াম ৬।

চক্ষুতে বেদনাহীন ক্ষত-কেলি-বাই ৩।

চক্ষুতে যেন বালুকা রহিয়াছে এরূপ অনুভব কষ্টিকাম ৬, হিপার ৩০, নেট্রাম-মিউর ৩০, সালফার ৩০।

সূর্য্যরশ্মি অপেক্ষা গ্যাসালোকে চক্ষুর যন্ত্রণা বৃদ্ধি-সালফার ৩০।

চক্ষু হইতে তৈলবৎ অশ্রু ঝরিলে-সাফার ৩০।

চক্ষুতে আড়ষ্টতাব অনুভবে নেট্রাম-মিউর ৬০, ৩০; রুটা ২০, ৬।

রাত্রিতে চক্ষুর পীড়া বাড়িলে আর্স ৬, সিফিলিনাম ৩০।

রৌদ্র বা প্রখর আলোকে চক্ষুর পীড়া বাড়িলে মার্ক-সল ৩, অ্যাসারাম-ইউ ৬।

চক্ষু নাড়িলে যন্ত্রণার বৃদ্ধি লক্ষণে ব্রাইয়োনিয়া ৩, নেট্রাম-মিউর ৩০, আর্জ-নাইট্রিক ৬।

তাপ দিলে চক্ষুর যাতনা বৃদ্ধি লক্ষণে-সালফার ৩০।

তাপ দিলে চক্ষুর যাতনা উশপম লক্ষণে-হিপার ৬, আর্স ৩০।

চক্ষুতারা বিস্তৃত হইলে-বেল ৬. ট্র্যামো ৩০।

৫৩৫

চক্ষুতারা সঙ্কুচিত হইলে-সিনা ২০, ২০০; ওপিয়াম ৩; ফাইজস্টিগমা ৩।

ত্যিক বা ট্যারা দৃষ্টি (strabismus) -অ্যালু মেন ৬, এলাম ৬. স্যান্টোনাইন ২০, বেলেডোনা ৩, জেল্সিমিয়াম ৩০, হাইয়োসায়েমাস ৬. সিনা ২০০।

বর্ণান্ধতা বা দৃষ্টি-বিকার (colour-blindness) বর্ণবিভ্রম বেঞ্জিনাম-ডাই-নাইট্রিক ৩, ৩০; স্যান্টোনাইন ৩০, বেল ৬, ক্যাঙ্কে-কার্ব ৩, রুটা ৩।

দিবালোকে দেখিতে পায় না বোপ্রপ্স ৬, অ্যাকোন, লাইকো, ফম্ফো, র‍্যানান,-বাম্বো, সাইলি প্রভৃতি ঔষধ লক্ষণানুসারে প্রযোজ্য।

রাত্রিকালে দেখিতে না পাইলে বেলেডোনা ৬, এপিস ৬, নাক্স-ভম ৩, ৩০; ফাইজস্টিগ্যা ৩, কাড়ুমি-সাল্ফ, চায়না, হেলিবো, লাইকো, পাস, হাইয়ো, হিপার প্রভৃতি ঔষধ আবশ্যক হইতে পারে।

ক্ষীণ-দৃষ্টি ফস্ফোরাস ৬, কষ্টিকাম ৬, এপিস ৬।

সকল রংই লাল দেখা-বেল ৩০, ফস্কো ৬, এপিস ৬।

” ” বেগুনী দেখা-সিনা ৩০, স্যান্টোনাইন ১০, ৩০।

” হরিদ্রাবণ’ দেখা-এলোজ ৬, ৩০, আর্স ৬, সিনা ২০০,

স্যান্টোনাইন ২০, ৩০।

কাল দেখা-নেট্রাম-মিউর ৩০, সাল্ফার ৩০, এগারিকাস ৬, ৩০, কার্বো-ভেজ ৩০।

নীলবর্ণ দেখা-অরাম ৬, সিনা ৩০, লাইকো ৩০, ক্রোটন ৬, ৩০।

পড়িবার সময়ে চক্ষু সহজে ক্লান্ত হইয়া পড়িলে জ্যাবোর‍্যান্ডি ৩, নেট্রাম-আর্স ৩, ৩০।

অক্ষরগুলি পরস্পরের সঙ্গে জুড়িয়া (পড়িবার সময়) যাইতেছে এইরূপ অনুভূত হইলে-নেট্রাম-মিউর ৩০, এগারিকাস ৬, ৩০, বেল ৬, ৩০।

অক্ষরগুলি অন্তর্হিত হইতেছে (পড়িবার সময়) এইরূপ অনুভূত হইলে -সাইকিউটা ৩।

চক্ষুর পাতার নীচে ফুস্কুড়ি ও ক্ষত-জেকিউরিটি ৩০।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *