পরিপাক যন্ত্রের-পীড়া
(Diseases of the Digestive Organs)
অজীর্ণ-রোগ
(Dyspepsia or Indigestion)
পরিপাক ক্রিয়ার বৈলক্ষণ্যই
“অজীর্ণতা”। ক্ষুধামান্দ্য, পেটফাপা কোষ্ঠবন্ধতা বা উদরাময়, উদ্ধার উঠা, বমনোদ্বেগ বা বমন, বুক-জালা বা গলা-জবালা, পেটভার, মুখ দিয়া জল উঠা, আহারান্তে পেটবেদনা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, নিদ্রাবস্থায় বোবায় ধরা প্রভৃতি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। এই রোগ হইতে ক্রমে বাত, বহুমূত্রাদি বহুবিধ উৎকট পীড়ার উৎপত্তি হইতে পারে। পাকাশয় সুস্থ রাখিতে হইলে পানাহারে সংযম ও সতর্কতা এবং পরিমিত শ্রম ও বিশ্রামের প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন ।
কারণ।—অপরিমিত তৈলাক্ত বা ঘৃতাক্ত গুরুপাক দ্রব্য ভোজন, অসময়ে আহার, খাদ্যদ্রব্য উত্তমরূপে চর্বণ না করিয়া উদরস্থ করা, দীর্ঘকাল যাবৎ নানাপ্রকার ঔষধ সেবনে, অতিরিক্ত তামাক, চা বা মদ্যপান, অতিরিক্ত শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রম অথবা একেবারে পরিশ্রম না করা, অস্বাস্থ্যকর স্থানে বা গৃহে বাস, ঠাণ্ডা লাগান, সর্বদা অম্ল বা আচার খাওয়া, কোমরে কাপড় খুব অটিয়া পরা, রক্তস্বল্পতা, মন অপ্রফল থাকা। সোরা ধাতুগ্রস্ত ব্যক্তিগণ প্রায়ই অজীর্ণ রোগে ভুগিয়া থাকে—ইহাদের চর্মরোগ প্রকাশ পাইলে অজীর্ণতা কমিয়া যায়।
সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা
(১) তৰুণ অজীর্ণ রোগে।- নাক্স, আর্স, ব্রাইয়ো, বিস্মাথ (রাত্রিতে ক্রমাগত দারুণ যন্ত্রণা ; আক্ষেপ ) ; পাল্স (গুরুপাক বা চর্বিযুক্ত আহারের পর অজীর্ণতা) ; আইরিস ( বমন ও উদরাময়সহ শিরঃপীড়া) ; কলোসিন্থ ( টক ফল-মূল খাওয়া হেতু অজীর্ণতা )।
;
(২) পুরাতন অজীর্ণ রোগে।—নাক্স-ভম, আর্স, ব্রাইয়ো, কার্বো-ভেজ, পাল্স, সাফ, ক্যাল্কে-কার্ব, মার্ক, কেলি-বাই, আর্ণিকা, থ,জা, অ্যান্টিম- ফ্রড, লাইকো, থিয়া (চা-পানজনিত অজীর্ণতায় )।
অজীর্ণ-রোগ
২০৩
(৩) ঠাণ্ডা লাগা হেতু অজীর্ণতায়-অ্যাকোন, ডাকা, মার্ক’। (৪) মানসিক ভাবাদির আতিশয্য-জনিত অজীর্ণতায়-নাঙ্গ-ভম, দূর্ভাবনা ও রাত্রি জাগরণ হেতু অজীর্ণতা— ইগ্নেসিয়া । (৫) দৌর্বল্য-জনিত অজীর্ণতায় চায়না, অ্যাসিড-ফস, ফেরাম।
কয়েকটি প্রধান ঔষধের লক্ষণ
নাক্স ভমিকা ৩x – ৩০। আহারের কিছুক্ষণ পর পাকস্থলীতে ভারবোধ ও বেদনা ; বুক-জালা, পেট-ফাঁপা অলোশার ; বারবার ভুক্তদ্রব্য বা পিত্ত- বমন, মুখে তিক্ত অম্লাস্বাদ ; আহারের পর তন্দ্রাবেশ ও আলস্য; প্রাতঃকালে মাথাধরা ও মাথাঘোরা ; বারম্বার মলত্যাগের ইচ্ছা, কিন্তু মল নিঃসরণ হয় না; মুখমণ্ডল ঈষৎ হরিদ্রাভ। তাম্রকট সেবন, মদ্যপান ও বহু প্রকার “গরা”
ঔষধ সেবন—নাক্স-ভম ১x ফলপ্রদ।
নেট্রাম-মিউর ১২x চূর্ণ, ৩০।– আলু,, ময়দা প্রভৃতি শ্বেতসারজাতীয় দ্রব্য অধিক পরিমাণে ভোজন-জনিত অজীর্ণতা। মুখ দিয়া জল উঠা, মুখে তিক্ত আস্বাদ, বুক-জালা, শীতবোধ, আহারের পর বুক ধড়ফড় করা ; রক্ত- হীনতা লবণ খাইতে প্রবল ইচ্ছা, কোষ্ঠকাঠিন্য ; অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়-চালনা জনিত
উদরাময়ে ।
19
পাল্সেটিলা ৩x – ৩০।–বুক-জালা, বমনেচ্ছা, শিরোঘূর্ণন, জিহ্বা শূষ্ক ও খসখসে, ঘন ঘন তরল বা আমময় ভেদ, মুখে লবণাক্ত, তিক্ত বা অম্লস্বাদ ; শীতবোধ ; বিশেষতঃ অধিক তৈল বা ঘৃতপক্ষ দ্রব্য আহারজনিত অজীর্ণতা ; ফল, পিষ্টক, আইসক্রীম বা কুম্পি-বরফ খাওয়া হেতু অজীর্ণতা। মৃদু-প্রকৃতিবিশিষ্ট নারীগণের বা যাহারা ঋতুর গোলযোগ-জনিত উপসর্গাদিতে ভুগিতেছে, তাহাদের পক্ষে ইহা বিশেষ উপযোগী।
এবিস নাইগ্রা 3x । – আহারের পর পাকাশয়ে দারুণ যন্ত্রণা ; কোষ্ঠ- কাঠিন্য : বৃদ্ধদিগের অজীর্ণ রোগ।
অ্যানাকার্ডিয়াম ৩।- আহারের অব্যবহিত পরেই রোগীর যন্ত্রণার সাময়িক উপশম, কিছুক্ষণ পরেই পুনরায় উদরে বেদনা।
হাইড্রাষ্টিস ১x, ৩x, ৩০।– হলদে চটচটে জিহ্বা, মুখমণ্ডল মলিন দেখায়, পেট “পড়িয়া থাকে।” পেটে শূলবেদনার ন্যায় কষ্টকর যাতনা
208
হোমিও পারিবারিক চিকিৎসা
শাক-সব্জী বা রুটি খাইলে অম্ল, অজীর্ণতা ও দূর্বলতা বাড়ে। পাকস্থলী পূর্ণ ও ভারবোধ, কোষ্ঠকাঠিন্য, শিরঃপীড়া (বিশেষতঃ কপালে) অन- উশার, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা।
নেট্রাম-ফস ৩x—– ১২ চূর্ণ। অম্ল-রোগ; অল-উদ্ধার ও
ক্রিমি থাকিলে বিশেষ উপযোগী।
বমন ;
আর্সেনিক ৩x–৬।— পাকস্থলীতে অত্যন্ত জালাবোধ ; অত্যুষ্ণ জল পানে উপশম : বরফ খাইয়া অজীর্ণ-রোগ।
ব্রাইয়োনিয়া ৬। —— আহারান্তে পাকস্থলীতে ভারবোধ, মনে হয় যেন পাকস্থলীতে একখণ্ড পাথর চাপান আছে ; কোষ্ঠকাঠিন্য, মল কঠিন, শুষ্ক ও দগ্ধবৎ (দেখিতে ঝামার মত); মাথাঘোরা, মাথাধরা, পাকাশয়ে খোঁচা-বে ধার মত বেদনা ; মুখে তিক্ত বা অল-আস্বাদ এবং পিত্ত-বমন বা বমনেচ্ছা। গ্রীষ্ম- কালীন উদরাময় ; বিশেষতঃ আর্সেনিকের অপব্যবহার জনিত অগ্নিমান্দ্য ; একগুয়ে বা খিটখিটে মেজাজ।
;
লাইকোপোডিয়াম ৬, ৩০, ২০০।– মলদ্বার দিয়া বায়ু নিঃসরণ ; নিবীর্য্য রোগীর অজীর্ণ, ভক্তদ্রব্য পরিপাকের সময় অতিশয় তন্দ্রা ও নিদ্রাভঙ্গের পরই অবসন্নতা; উদরে বায়ু সঞ্চয় হেতু পেটফাঁপা ; কোষ্ঠবদ্ধতা ; পেট ভুটভাট করা, অল-উজ্জার বা টক ঢেকুর; বামদিকের অস্ত্র কর্ণপিতে থাকা। দুর্বলতা বা অধ্যয়নাদিজনিত অপরিপাক ; পেশীর ক্ষমতা হ্রাস হইয়া বা পরিপাক-রসের অভাববশতঃ অজীর্ণ রোগ।
কার্বো-ভেজ ৩x চূর্ণ, ৩০।–ঊর্ধ্ব দিকে বায়ু নিঃসরণ (ঢেকুর উঠা ) ; পেট-ফাঁপা, বুক-জ্বালা, উদরাময়, মাথাধরা ও দুর্বলতা; পুরাতন অগ্নিমান্দ্য বা বৃদ্ধদিগের অগ্নিমান্দ্য রোগে বিশেষ উপযোগী।
মুখ দিয়া অবিরত স্বাদহীন জল উঠা বা কট, তিক্ত, ঝাল বা পচা গন্ধযুক্ত উপার উঠা ; কিম্বা পর্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতা উপসর্গে, কার্বো-ভেজ ৩x বিচূর্ণ।
সিপিয়া ৬।পুরাতন অজীর্ণ রোগ (বিশেষতঃ জরায়ুদোষ থাকিলে ) মলদ্বারে ভারবোধ, টক বা তিক্ত আস্বাদ, অল, আচার প্রভৃতি খাইবার ইচ্ছা, ত্বক মলিন ও হরিদ্রাবর্ণ।
অ্যান্টিম-ফ্রড ৬।——পরিপাক-শক্তি হ্রাস; পাকস্থলীতে ভারবোধ; বমনেচ্ছা
২০৫
এবং পিত্ত বা শ্লেষ্মা-বমন; দূগন্ধ বায়ু নিঃসরণ; ভুক্তদ্রব্যের আস্বাদবিশিষ্ট কোষ্ঠবদ্ধতা ও উদরাময় (পর্যায়ক্রমে ) ; মুখমণ্ডলে কুসকুড়ি বা নাসারন্ধ্রে ও ওষ্ঠে ক্ষত ; জিহ্বা সাদা পুরু ক্লেদারত। অরুচি, খাইবার পর
উদর-স্ফীতি।
ফোরাস ৩০। পুরাতন অজীর্ণ রোগ অল-উল্লার वा অल-वगन, অতিশয় ভূষা, পেটফাপা, জিহ্বা লেপাকৃত, পেটে জালাবোধ, জল পানে উপশম, কিন্তু জলটকুও (পানের একটু পরেই) বমি হইয়া যায়। চায়না ৩X, ২০০।- ম্যালেরিয়াজনিত অজীর্ণতায় এবং দীর্ঘকাল সুরাপানজনিত পুরাতন অজীর্ণ রোগ, শোথ, যকৃৎ-প্রদাহ প্রভৃতি লক্ষণসহ । মার্ক সল ৩x, ৬, অ্যাকটিয়া-রেসিমোসা ৬ ও থিয়া ৩০। দীর্ঘকাল
চা-পান হেতু অজীর্ণ রোগ।
প্লাম্বাম ৬, ২০০। ঠাণ্ডা লাগা হেতু অগ্নিমান্দ্য। পেটে চাপবোধ : শক্ত জিনিষ খাইতে পারে না ; উদরশূল, কোষ্ঠকাঠিন্য।
আর্জেন্ট-নাইট্টি ৬, ২০০।- রক্তহীনতা প্রভৃতি কারণে অজীর্ণ রোগ ;
পাকাশয়ে বেদনাসহ অম্লরোগ, উদ্ধার।
পূজা ৬, ৩০।–বেশী মাত্রায় চা-পান জনিত উপসর্গ ; ক্ষুধালোপ, আহারের পর পেটব্যথা ; উদরে বায়ু সঞ্চয় ; উপর পেটে ব্যথা ; পিপাসা, আলু, মাংস ও পেয়াজে অরুচি।
;
কেলি-বাই ৬।—অধিক পরিমাণে “বিয়ার” নামক মদ্যপান জনিত উপসর্গ ; জলে বিতৃষ্ণা ; অলদ্রব্য খাইতে ইচ্ছা ; আহারের পর এবং মুক্তবায়ু সেবনে বমনেচ্ছার উপশম, কিন্তু উদরে কৰ্ত্তনবৎ যন্ত্রণা; হরিদ্রাবর্ণ জলবৎ বমন ; মাংস অসহ্য, খাইবার পর পেটে ভারবোধ।
;
নাক্স-মস্কেটা ২x–৬।–বাহ্য ঔষধাদি প্রয়োগে চর্মরোগ বসিয়া গিয়া অজীর্ণ হইলে ; আহারের পরই শূলবৎ পেটব্যথা (কেলি-বাই)। পেটে খেচুনি, পেটে জালা ও পেট গরম ; উদর পূর্ণ, তজ্জন্য শ্বাসকষ্ট। বৃদ্ধ ব্যক্তিদিগের অজীর্ণ রোগ।
হিপার-সাফার ৬ বা ১২।——পুরাতন অজীর্ণ রোগে যখন আর কোন দ্রব্যই পরিপাক হয় না। টক বা আচার খাইবার ইচ্ছা ; পারদ অপব্যবহার জনিত অগ্নিমান্দ্য।
সাফার ৩০, ২০০।—অম্ল-উগার ; পাকাশয়ে ভারবোধ, আহারান্তে তন্দ্রালুতা ; মুখপ্রান্তে এবং ওষ্ঠে ক্ষত ও স্ফীতি ; পুনঃ পুনঃ অজীর্ণতা ; প্রাতঃকালে সাফার ৩০ ও সূর্যাস্তকালে নাক্স- কোষ্ঠকাঠিন্য ও অর্শ । ভূমিকা ৩০–এই দুইটি ঔষধ অনুরূপভাবে প্রয়োগ করিয়া অজীর্ণ রোগে অনেক লব্ধপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক আশাতীত সফল পাইয়াছেন বলিয়া থাকেন ৷
ক্যাল্কেরিয়া-কাৰ’ ৬, ১২ বা ৩০।–কট, অম্লোল্গার-বিশিষ্ট পুরাতন অগ্নিমান্দ্য ; কাসি ; ধীরে ধীরে শরীর শীর্ণ হইতে থাকা। প্রচুর ঋতুস্রাব । আহারের পরেই ভুক্তদ্রব্য অম্ল হইয়া যাওয়া ; অম্ল-উগার বা অম্ল-বমন। পাম্সেটিলা সেবনের পর ইহা উপযোগী।
আইয়োডিয়াম ৬, পেট্রোলিয়াম ৬ সময়ে সময়ে আবশ্যক হয়। রোগ” দ্রষ্টব্য।
“অম্ল-
অবশ্য
বায়োকেমিক মতে লক্ষণানুসারে নিম্নে বর্ণিত অজৈব লবণ প্রয়োগ দ্বারা পরিপাক দোষজনিত যাবতীয় পীড়া আরোগ্য হইয়া থাকে। বহুদিনের পাঁড়া আরোগ্য হওয়া সময় সাপেক্ষ, কিন্তু আহার বিহারে সংযম উপেক্ষা করিলে চিকিৎসাই ব্যর্থ হইবে।
ফেরাম-ফস ৬x।—গ্যাস্ট্রাইটিস সহ বেদনা ও স্ফীতি, স্পর্শ অসহ্য ; অজীর্ণ খাদ্য বমন। জিহ্বা পরিষ্কার।
কেলি-মিউর ৬x, ১২x । – জিহ্বা শ্বেত বা ধূসরাভ শ্বেত লেপাকৃত। যকৃতের দোষ ঘটিত অজীর্ণ রোগে শ্রেষ্ঠ ঔষধ। ঘৃতযুক্ত বা চর্বি সংযুক্ত গুরুপাক খাদ্য সেবনে পাকাশয় বিকৃতি, অস্বস্তিবোধ ও বিবমিষা।
নেট্রাম-ফস ৬x – ৩০x — পাকাশয়ের ক্ষত। ‘বুকজালা” রোগে এই ঔষধসহ একান্তরক্রমে ‘ফেরাম-ফস’ প্রয়োগ ফলদায়ক।
কেলি-ফস ৬x, ১২x । —— অবসাদসহ অজীর্ণরোগ, আধান ও উদ্ধার। ‘পাকাশয় পরিপোষক স্নায়ুর বিশৃঙ্খলা হেতু ক্ষত ; স্নায়বিক উপসর্গ। উদ্গার। একটা ক্ষুদ্রস্থানে নিরন্তর বেদনা।
নেট্রাম-মি ১২x, ৩০x । — কোষ্ঠকাঠিন্য সহবত্তী অজীর্ণরোগ। রুটি, খাইতে অরুচি, রুটি সহ্য হয় না। গলা পর্যন্ত জল উঠে, কিন্তু টক নহে।
কেলি-সাল্ফ ৬x, ১২x । — পুরাতন গ্যাস্ট্রাইটিস রোগের শ্রেষ্ঠ ঔষধ।
২০৭
নেট্রাম-মি এবং
পীতবর্ণ, পিচ্ছিল, ক্লেদাবৃত জিহ্বা ; মুখে বিকৃত স্বাদ। কেলি-মি ব্যর্থ হইলে কেলি-সাফ অনেক সময় সুন্দর কাজ দেয়।
কয়েকটি বিশেষ লক্ষণের ঔষধ
মুখ দিয়া জন উঠা। কার্বো-ভেজ ৩X চূর্ণ, ব্রাইয়োনিয়া ৬, ভূমিকা ৩০, লাইকোপোডিয়াম ৩০।
ক্ষুধামান্দ্য। -ক্যাল্কে-কার্ব, চায়না, ফেরাম।
রাক্ষুসে ক্ষুধা। চায়না, সিনা, আয়োড, নেট্রাম-মিউর। পেট-ফাঁপা। —লাইকোপোডিয়াম ( কোষ্ঠকাঠিন্যসহ ).
(উদরাময়সহ)।
#141-089
বুক-জালা। –ক্যাঙ্কে-কার্ব ৬, ক্যাপ্সিকাম ৬, কার্বো-ভেজ ৬,
নাক্স-ভ।মকা ৩০, পাল্সেটিলা ৩০।
দুর্গন্ধ ঢেকুর উঠা।—কার্বো-ভেজ ৬. সাফার ৩০।
অম্লরোগ।—অ্যাসিড-সাফ
২x৩০, ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব ৬-00. নেট্রাম-ফস ৩x – ১২x চূর্ণ, ফস্ফোরাস ৬, রিউম ৩০. রোবিনিয়া ৩. ক্যারিকা-পেপেয়া (৫–১০ ফোঁটা) আহারান্তে সেব্য।
হিক্কা । -অ্যাসিড-সাল্ফ ( অম্লরোগসহ হিক্কা ) ; নাক্স ভমিকা, আর্সে’- নিক, কলোফাইলাম, জেল্সিমিয়াম।
বুক চাপা স্বপ্ন।——নাক্স ভমিকা ১x—৩০ (নেশা করা বা অজীর্ণতা হেতু ) ; চায়না ( স্বপ্নে বক্ষঃস্থলে বেশী চাপবোধ ); সাফার (স্বপ্নে বেশী বুক ধড়ফড় করা ) ।
আহারাদির দোষে অজীর্ণ রোগ।—পিষ্টক, চর্বিযুক্ত, তৈলাক্ত বা ঘৃতপক্ক দ্রব্যাদি (লুচি, কচুরি, পোলাও প্রভৃতি) আহার বা অধিক পরিমাণে শীতল পানীয় পানহেতু অজীর্ণ রোগ—পাল্সেটিলা ৩–৬।
কাফি বা মদ্য, বিশেষতঃ ‘হুইস্কি’ পান, রাত্রি জাগরণ, আফিং সেবন, চিংড়ি বা ডিমের শ্বেতাংশ ভোজনজনিত অজীর্ণ—নাক্স-ভম ৩x–৩০। দগ্ধ হজম হয় না ; বুগ্ধ পানে অজীর্ণতা ও পেটে কত্ত নিবং যন্ত্রণা— ইথুজা ৬।
অম্ল বা টক খাইয়া অজীর্ণতায়—অ্যান্টিম-ক্রুড ৬।
পচা মাছ-মাংস বা মাখন খাইয়া অজীর্ণতায় – কার্বো-ভেজ ৬।
জন, কুলপি-বরফ ा বেশী
জল খাইয়া অজীর্ণতায়-
বরফ আর্সেনিক ৬।
তরকারী খাইবার পর অজীর্ণতায়—সিপিয়া ৩০। লবণের অপব্যবহার জনিত অজীর্ণতায়—ফস্ফোরাস মিউর ৩০।
৬. নেট্রাম-
ফুটি ও তরমুজ ভক্ষণ বা দূষিত-জল পান হেতু অজীর্ণ রোগ হইলে—জিঞ্জিবার ৩–৬।
অতিরিক্ত ফল আহার হেতু অজীর্ণতা জন্মিলে, চায়না ৩ বা আর্সেনিক ৬ ( ফল পরিপাক না হইয়া অজীর্ণ অবস্থায় নির্গত হইতে থাকিলে ও পেটে জালা অনুভূত হইলে —চায়না সমধিক উপযোগী)।
আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা। — প্রত্যহ প্রাতে ৪০।৫০টি চাউল মুখে দিয়া এক গ্লাস জল পান করা এবং পেটে উত্তমরূপে সরিষার তৈল মালিশ করা উপকারী। শুষ্ক মুড়ি খাওয়া উপকারী। প্রত্যহ অন্ততঃ ৩ মাইল ভ্রমণ কৰ্ত্তব্য। লঘু
ব্যায়াম হিতকর।
পালনীয় নিয়ম। —অজীর্ণ রোগে পথ্যাপথ্যের নিয়ম পালন না করিয়া কেবল ঔষধ সেবনে ফল হয় না । প্রত্যহ নির্দিষ্ট সময়ে স্নান-আহার করা বিধেয়। ভোজ্যদ্রব্য ধীরে ধীরে চর্বণ করিয়া গলাধঃকরণ করা উচিত। শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমের অব্যবহিত পূর্বে বা পরে আহার হানিকর। গুরুপাক দ্রব্য (লঙ্কা বা গরম-মশলাযুক্ত কিম্বা তৈল ও ঘৃতাক্ত ব্যঞ্জনাদি ) যথা সম্ভব বর্জনীয়। দিবা-নিদ্রা, রাত্রি জাগরণ, অধিক রাত্রিতে ভোজন, রাত্রিতে আহার করিয়াই শয়ন পরিত্যাজ্য। পানের রসসহ লেবুর রস মিশাইয়া খাইলে অরুচি দমন হয়। আহারের তিন ঘণ্টা পরে কতকটা লেবুর রস জলসহ খাওয়া বিশেষ হিতকর। পোরের ভাত, ঘোল ও আনারসের রস সুপথ্য। আপেল (সিদ্ধ), আঙ্গুর, ডালিম, পেপে প্রভৃতি সুপাচ্য ফল খাইতে বাধা নাই। ডাবের জল ও নারিকেলের নরম শাঁস এই রোগে উপকারী। পুরাতন চাউলের ভাত বা চিড়া গরম জলে ভিজাইয়া দধি বা ঘোলের সহিত খাইলে অনেক সময় উপকার পাওয়া যায়। দধি এবং কর্ণচা পেপের তরকারি এবং কখন কখনও দুগ্ধ এই রোগে সপথ্য। জিনিষ, ডাল এবং চা, কফি ও কোকো প্রভৃতি অপথ্য। প্রতিবার আহারের
“ভাজা”
২০৯
বিশ-পচিশ মিনিট পূর্বে এক পোয়া আন্দাজ গরম জল পান করিলে, কখন কখনও অজীর্ণ রোগ সারিয়া যায়। ভোজনকালে অধিক পরিমাণে জল পান করা হানিকর ; ভোজনের দুই-তিন ঘণ্টা পরে জল পান করা হিতকর। অন্নব্যঞ্জনাদি সুসিদ্ধ হওয়া আবশ্যক। বেশী বাই-কার্বনেট-অব-সোডা বা চাপের জল কিবা অধিক মাত্রায় সোডা ওয়াটার ব্যবহার করা উচিত নহে। বরফ ও আইসক্র বিশেষ অপকারী। কেহ কেহ বলেন, ভোজনের পরই শিশুর ন্যায় ক্ষণকাল হামাগুড়ি দেওয়া বা শুইয়া কয়েকবার চিৎ-উপর হইয়া উলটি-পালটি খাওয়া
হজমের সহায়ক।
কাঁচা পেয়াজ ভক্ষণে পাচক রসের (gastric juice) অनত্ব বর্ণিত হয়। [ জার্মাণির অন্তঃপাতী মিউনিক নগরের সুপ্রসিদ্ধ ডাক্তার Wilbrands Report of experiment in the Muenchener Medizinsche Moch- enscrift দ্রষ্টব্য ]। যাহাদের অতিরিক্ত পরিমাণে পাচক রস ক্ষরণ হয় তাহাদের পক্ষে আহারের অন্ততঃ অৰ্দ্ধ ঘণ্টা পূর্বে খানিকটা করিয়া কাঁচা পেয়াজ খাইলে উপকার হইতে পারে।
রাণীগঞ্জ, ছোটনাগপুর, সাঁওতাল-পরগণা প্রভৃতি যে যে স্থানের জলে বহুল পরিমাণে ধাতব বস্তু আছে (minerals) বিশেষ করিয়া অস্ত্র (Mica) আছে, সেই সেই স্থান যকৃৎ দোষযুক্ত অজীর্ণ রোগীর পক্ষে অনুপযোগী : এতাদশ রোগীর পক্ষে কাশী, বিন্ধ্যাচল বা ভুবনেশ্বরের মত স্থানসমূহ হিতকর।
পথ্য। —লঘু ও পুষ্টিকর সুসিদ্ধ দ্রব্য এবং ফল সুপথ্য।
অপথ্য।—ঘৃতপক্ব বা অধিক তৈলাক্ত দ্রব্য; মাংস, ডিম, গাঢ় দুষ্ক, চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া, কাঁঠাল, মূলা প্রভৃতি অনিষ্টকর।
ST